• সোমবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৩ দুপুর

আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় নেই ১৯ লাখ আবেদনকারী

  • প্রকাশিত ১১:৫৬ সকাল আগস্ট ৩১, ২০১৯
আসাম
ভারতের আসামে চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) থেকে বাদ পড়েছেন রাজ্যের প্রায় ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন মানুষ। ছবি: এএফপি

বাদ পড়া ১৯ লাখ বাসিন্দা ১২০ দিনের মধ্যে ট্রাইবুনালে আপিলের সুযোগ পাবে 

ভারতের আসামে চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) থেকে বাদ পড়েছেন রাজ্যের প্রায় ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন মানুষ।

শনিবার (৩১ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল দশটায় অনলাইনে ও এনআরসি সেবাকেন্দ্রে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক সংবাদে বলা হয়েছে, মোট আবেদনকারী ৩ কোটি ৩০ লাখের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকায় নাগরিক হিসেবে স্থান পেয়েছেন ৩ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৪ জন।

এরআগে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে আদমশুমারির মধ্য দিয়ে প্রথম ধাপে ১ কোটি ৯০ লাখ অধিবাসীকে নাগরিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। দ্বিতীয় দফায় ২০১৮ সালের জুনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা ৩ কোটি ২৯ লাখ অধিবাসীর মধ্যে ২ কোটি ৮৯ লাখকে সংশোধিত নাগরিকত্ব তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করাহয়। এসময় ৪০ লাখ, ৭ হাজার ৭০৭ মানুষ তালিকায় স্থান পায়নি ওই তালিকায় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স। এদের অধিকাংশই বাংলা ভাষাভাষী কিংবা মুসলমান ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী। পরবর্তী সময়ে জুনে তালিকায় আবার সংশোধনী আনা হয়।

জম্মু ও কাশ্মীরের কয়েক দশকের পুরনো স্বায়ত্তশাসন বাতিল করার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই এই এনআরসি তালিকা প্রকাশ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম বৃহত্তম পদক্ষেপ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে এনআরসি তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এই রাজ্য যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ছড়ায় সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বেশকয়েকটি সরকারি স্থানে চারজনের বেশি মানুষ জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, বিশেষত সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোতে। কেননা এর আগে আসামের গুয়াহাটিসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় এই ইস্যুতে পরিস্থিতি অশান্ত হয়। আসামজুড়ে প্রায় ৬০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ২০ হাজার অতিরিক্ত আধা-সামরিক বাহিনীও আসামে পাঠিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, যাদের নাম চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় স্থান পাবে না সমস্ত আইনি বিকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এখনই ‘বিদেশি’ ঘোষণা করা যাবে না। এনআরসি’র বাইরে থাকা প্রতিটি ব্যক্তি বিদেশি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন এবং আবেদন করার সময়সীমা ৬০ থেকে বাড়িয়ে ১২০দিন করা হয়েছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে তাদের পক্ষে যুক্তি শোনার জন্য পর্যায়ক্রমে কমপক্ষে এক হাজার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে; এরমধ্যে ১০০টি ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই খুলে দেওয়া হয়েছে এবং আরও ২০০টি আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই স্থাপন করা হবে। ট্রাইব্যুনালে কেউ মামলা হারলেও তারা উচ্চ আদালত এবং তারপরে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করতে পারবেন।

সকল আইনি বিকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই বিদেশি হিসেবে ঘোষণা করা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে মোদী সরকার।