• রবিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৩৫ সকাল

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবলীগ নেতা হত্যার প্রধান আসামি রোহিঙ্গা নেতা নিহত

  • প্রকাশিত ১০:৫৬ সকাল সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯
যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা
টেকনাফের যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদ ঢাকা ট্রিবিউন

সম্প্রতি টেকনাফের এই দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদের কিশোরী কন্যার কান ফোঁড়ানো অনুষ্ঠানে অতিথিরা উপহার হিসেবে ১ কেজি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪৫ লাখ টাকাসহ আরও নানা উপহার নিয়ে এলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়

পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে টেকনাফের যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদ (৩৫) নামের এক রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত হয়েছেন।

রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোর রাত সাড়ে ৫টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা ২৭নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় এই ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে।এঘটনায় বেশ কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার ও টেকনাফ থানার ওসি (তদন্ত)সহ ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে দাবি করছে পুলিশ।

সম্প্রতি টেকনাফের এই দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদের কিশোরী কন্যার কান ফোঁড়ানো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা উপহার হিসেবে এক কেজি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪৫ লাখ টাকাসহ আরও নানা উপহার নিয়ে এলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুইদিন আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাদিমোরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চিহ্নিত একাধিক মামলার পলাতক আসামি নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর সে পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে সম্প্রতি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা সঙ্গে সে জড়িত এবং পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে তার আস্তানায় অস্ত্র মজুদ রয়েছে।

তার স্বীকারোক্তির উপর ভিত্তিতে করে টেকনাফ থানা পুলিশের ওসি তদন্ত এবিএমএস দোহার নেতৃত্বে একদল পুলিশ পাহাড়ের আস্তানায় অভিযানে যান। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একদল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে নুর মোহাম্মদকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায়। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোঁড়ে। এতে থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) এবিএমএস দোহা (৩৬), কনস্টেবল আশেদুল (২১), অন্তর চৌধুরী (২১) আহত হয়। একপর্যায়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থল থেকে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ৪টি এলজি, ১টি থ্রি-কোয়াটার, ১৮ রাউন্ড গুলি, ২০ রাউন্ড খালি খোসাসহ ডাকাত নুর মোহাম্মদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

ওসি আরও জানান, গত ২২ আগস্ট যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ইয়াবা পাচার, সন্ত্রাস, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সে একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি ও রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠনের স্বঘোষিত নেতা। তার বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে টেকনাফে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যার মামলার আরও তিনজন আসামি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। এরা প্রত্যেকে দুইবছর আগে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে অন্যান্য রোহিঙ্গাদের সাথে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন এবং টেকনাফের জাদিমোরা শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পশ্চিম পাহাড়ে অবস্থান নেন।


আরও পড়ুন: যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামি ২ রোহিঙ্গা 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত



আরও পড়ুন: যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় আরেক রোহিঙ্গা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত




আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাকন্যার কান ফোঁড়ানো অনুষ্ঠানে ১ কেজি স্বর্ণ উপহার!