• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৮ রাত

ঠাকুরগাঁওয়ে বিরল প্রজাতির লক্ষ্মীপেঁচা উদ্ধার

  • প্রকাশিত ০৫:৪৯ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯
লক্ষ্মীপেঁচা
ঠাকুরগাঁওয়ের মনোয়ারা আনোয়ারা ম্যাটস ও নার্সিং ইন্সটিটিউট থেকে একটি বিপন্ন প্রজাতির লক্ষ্মীপেঁচা উদ্ধার করা হয়েছে। ঢাকা ট্রিবিউন

'উদ্ধারের পর ঠাকুরগাঁও বন বিভাগের রেঞ্জ অফিস ও প্রাণিসম্পদ অফিসে লক্ষ্মীপেঁচাটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হলেও তারা কোনও আগ্রহ দেখায়নি'

ঠাকুরগাঁও শহরের হলপাড়ায় অবস্থিত মনোয়ারা আনোয়ারা ম্যাটস ও নার্সিং ইন্সটিটিউট থেকে বিপদাপন্ন একটি লক্ষ্মীপেঁচা উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা লক্ষ্মীপেঁচাটিকে দেখতে পায়। তারা পেঁচাটি অফিসকক্ষে নিয়ে আসে। এসময় আশেপাশের মানুষ এটি দেখতে ভিড় জমায়।

ইন্সটিটিউটের শিক্ষক এম এ ইসলাম আব্দুল্লাহ জানান, “উদ্ধারের পর তারা ঠাকুরগাঁও বন বিভাগের রেঞ্জ অফিস ও প্রাণিসম্পদ অফিসে লক্ষ্মীপেঁচাটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানালেও তারা কোনও আগ্রহ দেখায়নি। কোনও লোকও পাঠায়নি। পরে প্যাঁচাটি সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় সোনার বাংলা রিসোর্টের মালিক নারায়ণ চন্দ্র পালকে অনুরোধ করা হলে তিনি প্যাঁচাটি নিয়ে যান।"

এ বিষয়ে নারায়ণ চন্দ্র পাল জানান, তিনি ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষের অনুরোধে পেঁচাটি নিয়ে এসেছেন। এটি যাতে সুস্থ থাকে তিনি সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাজেদ জাহাঙ্গীর বলেন, “এটি একটি বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির লক্ষ্মীপেঁচা। এরা সাধারণত পাকা ভবনে বা পরিত্যক্ত কোন কার্নিশে বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ে।”

এবিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, “এমনিতেই লক্ষীপেঁচা আমাদের দেশে সচরাচর দেখা যায় না, সাদা রংয়েরটি আরও বিরল। এটি প্রতিপালন ও দেখাশোনার দায়িত্ব বন বিভাগের তবে অসুস্থ হয়ে থাকলে আমরা এটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো। 

এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দিনাজপুর বন বিভাগের বন্যপ্রাণি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা স্মৃতি সিংহ রায় টেলিফোনে জানান, লক্ষী-প্যাঁচা পাওয়ার খবরটি তিনি জেনেছেন তবে তার মতে, লক্ষী প্যাঁচা কোনো বিরল প্রাণী নয়, অহরহই এদেশে পাওয়া যায় । তবে এটি নিশাচর বলে আমরা দেখতে পাইনা। এটি সংরক্ষণের অর্থ হলো, একে সুস্থ্য করে ছেড়ে দেয়া, এদেরকে বিরক্ত না করা। বন বিভাগ সংশ্লিষ্টদের এ পরামর্শই দিয়েছে।

তবে স্মৃতি সিংহ রায়ের বক্তব্যের সাথে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলার বক্তব্যে মিল পাওয়া যায় না। মিলা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “লক্ষীপেঁচা (Barn owl) সারাদেশেই কম-বেশি  দেখা যায়। কিন্তু কুসংস্কার, বৈরী পরিবেশ, খাদ্যের অভাব ও আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া, লক্ষীপেঁচার প্রতি কাকসহ কয়েকটি পাখির শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব এবং আক্রমণ ইত্যাদি কারণে এটি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।”

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবীর স্বার্থে এই পাখিটি রক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করেন এই বন কর্মকর্তা।