• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

মৃত্যুফাঁদ কুমিল্লার বানাশুয়া রেলসেতু!

  • প্রকাশিত ০৪:২৪ বিকেল সেপ্টেম্বর ২, ২০১৯
কুমিল্লা রেলসেতু
কুমিল্লার বানাশুয়া রেলসেতু ঢাকা ট্রিবিউন

সেতুটির দুইপ্রান্তে রয়েছে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সেখানে নেই কোনো অনুমোদিত রেলগেইট

কুমিল্লার বানাশুয়া এলাকার রেলসেতুটি যেন পরিণত হয়েছে রীতিমতো এক মৃত্যুফাঁদে। সেতু এলাকায় গত এক সপ্তাহে চারজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ পর্যন্ত চলতি বছরে এখানে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন। এছাড়া কয়েকটি যানবাহনও দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

গত ২৫ আগস্ট কুমিল্লা সদর উপজেলার বানাশুয়া রেলসেতুর নিচে গোমতী নদী থেকে শুভ বিকাশ চাকমা (৫০) নামের এক বৌদ্ধভিক্ষুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভিটিতলা এলাকার ভারত চন্দ্র চাকমার ছেলে। ধারণা করা হচ্ছে, চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় রেলসেতু থেকে পড়ে তিনি নিহত হয়েছেন। 

২৩ আগস্ট সেতুটির দক্ষিণপ্রান্তে ট্রেনে কাটা পড়ে সদর উপজেলার শাসনগাছা এলাকার মনিরুল হকের ছেলে স্বপ্নীল হক আদিত্য (১৩) এবং ধর্মপুর এলাকার সুবল রায়ের মেয়ে সেতু রায় (১৪) নিহত হন।

রেলওয়ে বিভাগ ও রেল পুলিশ সূত্র জানায়, বিভিন্ন কারণে বানাশুয়া সেতু এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। কারণ হিসেবে তারা জানান, রেলসেতুটির আশপাশে গোমতী নদীর তীরে কফিশপ গড়ে উঠেছে। এখানে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। এসব মানুষ কেউ সময় বাঁচাতে, কেউ আবার শখ করে রেলসেতু পাড়ি দেয়। সেতুটির পাশে কোনো ওয়াকওয়ে না থাকায় ট্রেন আসলে নিরাপদে সরে যাওয়ারও সুযোগ নেই। 

এদিকে, সেতুটির দুইপ্রান্তে রয়েছে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সেখানে নেই কোনো অনুমোদিত রেলগেইট। সেতুর দক্ষিণ দিকে ৪৫ ডিগ্রি বাঁক এবং লাইনের পাশে গাছ ও ঝোপ-ঝাড় থাকায় ট্রেন আসলে দেখার সুযোগ নেই। কুমিল্লা রেল স্টেশন দুই কিলোমিটার দূরে হওয়ায় সেখানে ট্রেনের গতিও বেশি থাকে।

কুমিল্লা রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মিজবাহুল আলম চৌধুরী জানান, এখানে দুর্ঘটনা আশংকাজনক হারে বাড়ছে। এবিষয়ে রেলওয়ে জেলা চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার বরাবর বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করে চিঠি পাঠিয়েছি। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিলে আশা করি দুর্ঘটনা কমবে।

রেলওয়ে কুমিল্লার উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) লিয়াকত আলী মজুমদার বলেন, রেল লাইন ও সেতুতে হাঁটাচলা বেআইনি। কিন্তু বাজার, আবাসস্থল সবকিছু রেললাইনের পাশে করা হচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনা বাড়ছে। বানাশুয়া রেলসেতুর স্থলে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে। নতুন সেতুর পাশে ওয়াকওয়ে থাকবে। আশা করি এতে দুর্ঘটনা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।