• রবিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৭ রাত

মিটার প্রতি ৮ হাজার টাকা না দেওয়ায় ট্রান্সফরমার খুলে নেওয়ার অভিযোগ

  • প্রকাশিত ০৯:১০ রাত সেপ্টেম্বর ২, ২০১৯
বিদ্যুৎ
প্রতীকী ছবি

বিদ্যুতের লাইন দেওয়ার কথা বলে আয়নাল মিটার প্রতি ৬ হাজার টাকা আদায় করেছেন। এরপর অতিরিক্ত আরও ২ হাজার করে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে বিদ্যুতের খুঁটিতে লাগানো ট্রান্সমিটার খুলে নিয়ে যান

শতভাগ বিদ্যুতায়ন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধীনে সরকারিভাবে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও পঞ্চগড়ে মিটার প্রতি আট হাজার টাকা করে না দেওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ট্রান্সফরমার খুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের কামাতপাড়া এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে মো. আয়নালের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুতের লাইন দেওয়ার কথা বলে আয়নাল মিটার প্রতি ৬ হাজার টাকা আদায় করেছেন। এরপর অতিরিক্ত আরও ২ হাজার করে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে বিদ্যুতের খুঁটিতে লাগানো ট্রান্সমিটার খুলে নিয়ে যান। এ ঘটনার পর এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত আবেদন করেন।

অভিযোগে জানা গেছে, দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের কামাতপাড়া, অধিকারীপাড়া, সর্দারপাড়া ও মুন পাড়া এলাকার ৪০ জন সুবিধাভোগীকে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার নাম করে ২০১৮ সালে মিটার প্রতি ৬ হাজার টাকা করে উৎকোচ আদায় করেন আয়নাল। চলতি বছরের মার্চ মাসে ওই এলাকায় সরকারিভাবে বিদ্যুতের খুঁটি, তার ও ট্রান্সমিটার লাগানো হয়। এক পর্যায়ে ঠিকাদারের সহযোগী আয়নাল সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে আরও ২ হাজার করে টাকা উৎকোচ দাবি করেন। টাকা না দিলে ট্রান্সমিটার খুলে নিয়ে যাবেন এবং আর কোনোদিন বিদ্যুৎ সংযোগ পাবেন না বলে হুমকি দেন।

বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেন তিনি। এলাকাবাসী উৎকোচের অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আয়নাল চলতি বছরের জুলাই মাসে খুঁটি থেকে ট্রান্সমিটার খুলে বাসায় নিয়ে যান। দুই মাস থেকে এলাকাবাসী এ বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কোনো লাভ হয়নি।

দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের অধিকারীপাড়া এলাকার আবু হানিফ, আবুল কাশেম, আব্বাস আলী, আলফাজ ও সহিদ আলম জানান, আয়নাল ইতোপূর্বে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে মিটার প্রতি ৬ হাজার টাকা করে আদায় করেন। আবার মিটার প্রতি ২ হাজার করে টাকা দাবি করেন। এলাকাবাসী এতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি বিদ্যুতের খুঁটিতে লাগানো ট্রান্সমিটার খুলে নিয়ে যান।

ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি পঞ্চগড় জোনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিদ্যুতের খুঁটি, তার ও ট্রান্সমিটার সংযোগের কাজটি ঠিকাদার করে থাকেন। আমরা মিটারের জামানত বাবদ ৪০০ টাকা এবং সমিতির সদস্য ফি বাবদ ৫০ টাকা সর্বমোট ৪৫০ টাকা জমা দিলেই গ্রাহককে মিটার ও সংযোগ দেই। শতভাগ বিদ্যুতায়ন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধিনে সরকারিভাবে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। ট্রান্সমিটার খুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি শুনলাম। আমরা ঘটনাস্থলে আমাদের লোকজনকে তদন্তের জন্য পাঠাবো। পরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।