• মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫০ রাত

ঘুষ না দেওয়ায় গণধর্ষণ: আলামত পেয়েছেন চিকিৎসকেরা

  • প্রকাশিত ১২:১৯ দুপুর সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৯
ধর্ষণ
প্রতীকী ছবি

টাকা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই খায়রুল ও সোর্স কামারুল তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওই গৃহবধূর

যশোরের শার্শায় ‘গণধর্ষণের শিকার’ গৃহবধূর (৩০) ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্টে চিকিৎসকেরা ধর্ষণের আলামত পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে ডিএনএ টেস্ট ছাড়া কার বা কাদের দ্বারা ওই গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন সেটা বলে যাবে না বলে জানিয়েছেন যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ডা. আরিফ আহমেদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে ধর্ষিত গৃহবধূর আলামত সংগ্রহ করে তা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে প্রাপ্ত রিপোর্টে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। কিন্তু সেই সিমেন কার বা কাদের তা ডিএনএ টেস্ট ছাড়া বলা যাবে না। সিআইডির মাধ্যমে ডিএনএ টেস্ট করাতে হয়। ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পাওয়া গেলেই জানা যাবে- সেই এক না কি একাধিক ব্যক্তির সিমেন রয়েছে।”

একপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সিআইডি’র পক্ষ থেকে আমাদের বলা হয়েছে-আলামত প্রস্তুত রাখতে।”

এদিকে, গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার তিন আসামিকে বৃহস্পতিবার ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, যশোরের শার্শা উপজেলায় দু’সন্তানের জননী এক গৃহবধূ (৩০) পুলিশের এসআই খায়রুল আলম ও সোর্স কামরুজ্জামান ওরফে কামারুল কর্তৃক গণধর্ষণের শিকার হন। গত ২৫ আগস্ট ওই মহিলার স্বামী, যিনি একসময় চোরাচালানের পণ্য বহন করতেন তাকে পুলিশ আটক করে। সেসময় তাকে ছেড়ে দেওয়ার শর্তে ৫০ হাজার দাবি করেন স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুল আলম। টাকা না দেওয়ায় তাকে ৫০ বোতল ফেনসিডিল দিয়ে চালান দেওয়া হয়। তিনি বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।


আরো পড়ুন: ঘুষ না দেওয়ায় গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে


পরে ২ সেপ্টেম্বর গভীররাতে এসআই খায়রুল, সোর্স কামারুলসহ চারজন ওই গৃহবধূর বাড়িতে যান এবং আবারও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই খায়রুল ও সোর্স কামারুল তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওই গৃহবধূর।

৩ সেপ্টেম্বর সকালে ওই গৃহবধূ যশোর জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্যে সেদিন বিকেলে আলামত সংগ্রহ করেন ডাক্তাররা।

এদিকে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হওয়ায় জেলা পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ধর্ষণের এই ঘটনায় ওই গৃহবধূ ৩ সেপ্টেম্বর রাতে শার্শা থানায় একটি মামলা (নম্বর-০৪/০৩.০৯.১৯) করেন। তবে রহস্যজনকভাবে মামলায় গোড়পাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ খায়রুলের নাম বাদ দেওয়া হয়। তবে, শার্শার চটকাপোতা এলাকার কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল, লক্ষ্মণপুর এলাকার আব্দুল লতিফ এবং আব্দুল কাদেরের নাম উল্লেখ এবং একজনকে অজ্ঞাত করে আসামি করা হয়। পুলিশ সেই রাতেই তাদের তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। অবশ্য এসআই খায়রুলকে ‘তদন্তের স্বার্থে’ সেখান থেকে প্রত্যাহার করে যশোর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহউদ্দিন শিকদার বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের বলেন, “অজ্ঞাত আসামিকে শনাক্তের জন্যে গ্রেফতার তিন আসামির প্রত্যেককে ৫ দিন করে রিমান্ডের জন্যে আজ আদালতে আবেদন করা হবে।”


আরো পড়ুন - যশোরে গণধর্ষণ মামলায় নাম নেই ‘মূল অভিযুক্ত’ পুলিশ সদস্যের