• বুধবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০০ দুপুর

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন নীতিমালা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বায়ত্তশাসনের ওপর হস্তক্ষেপ’

  • প্রকাশিত ০৫:২১ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৯
ঢাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা ট্রিবিউন

‘অভিন্ন নিয়োগ ও পদোন্নতির এই নীতিমালা দেশের উচ্চশিক্ষা ধ্বংসের নীলনকশা। বিশ্ববিদ্যালয়কে যারা অভিন্ন নীতিমালার আওতায় আনতে চান, বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক প্রণীত ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির অভিন্ন নীতিমালাকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’ আখ্যা দিয়েছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সা

মনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে ওই নীতিমালা প্রত্যাখানের ঘোষণা দেন শিক্ষকেরা। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরাম বাংলাদেশ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, মানববন্ধনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০ শিক্ষক অংশ নেন।

মানববন্ধনে এই নীতিমালাকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’অভিহিত করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য অভিন্ন নিয়োগ ও পদোন্নতির এই নীতিমালা দেশের উচ্চশিক্ষা ধ্বংসের নীলনকশা। বিশ্ববিদ্যালয়কে যারা অভিন্ন নীতিমালার আওতায় আনতে চান, বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই।”

পরে মানববন্ধনে অধ্যাপক কামরুলের পক্ষে বিবৃতি পড়ে শোনান কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক আলতাফ হোসেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষকদের মান ও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষক নিয়োগের শর্ত ঠিক করবে—এটাই কাম্য। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একেক অনুষদে, এমনকি একই অনুষদের একেক বিভাগে নিয়োগ ও পদোন্নতির একেক রকম নীতিমালা থাকতে পারে। অভিন্ন নীতিমালা না করে বরং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কাউন্সিলে যুগোপযোগী বাস্তব নীতিমালা প্রণয়নের অনুরোধ করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন বঙ্গবন্ধু সরকারের একটি রাজনৈতিক ও আদর্শিক সিদ্ধান্ত। অভিন্ন নীতিমালা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সেই স্বায়ত্তশাসনের ওপর চূড়ান্ত আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরাম মনে করে, বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকে ঢালাওভাবে বৈষম্যপূর্ণ আখ্যা দিয়ে ইউজিসি যে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে তা বৈচিত্রপূর্ণ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একধরনের ভুল সাধারণীকরণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী এবং বর্তমান সরকারেরই গত ১০ বছরের শিক্ষার উন্নয়নকে অস্বীকার করা।

এদিকে একই দাবিতে বৃহস্পতিবার সারা দেশে মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ইউজিসি এই অভিন্ন নীতিমালা তৈরি করেছিল৷ গত ২৫ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সভাপতিত্বে এক সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য অভিন্ন নিয়োগ ও পদোন্নতির নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে৷ বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতারত বাংলাদেশি শিক্ষকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি যুক্ত করে এই নীতিমালা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর তা প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে৷