• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৭ সকাল

ধর্ষণের পর চারজন মিলে হত্যা করে শিশু এমরানকে

  • প্রকাশিত ০২:৫৯ দুপুর সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯
নোয়াখালী

অভিযুক্ত চারজনের চলাফেরা ছিল এলাকার বখাটেদের সঙ্গে। তারা কাউকেই পরোয়া করতো না

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানি বাজারে সাত বছরের শিশু এমরান হোসেনকে ধর্ষণের পর মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকলে ওয়াসিম আকরামসহ (২০) চারজন তার গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ ঘটনায় ওয়াসিমকে গত ১ সেপ্টেম্বর আটক করে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ। পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে সে। 

এ ঘটনায় জড়িত রনি নামে একজনকে বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ফেনী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলার ৪ আসামির দুইজনকে গ্রেফতার করলো পুলিশ। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত চালানো হচ্ছে।

গ্রেফতার রনি পেশায় গাড়ি চালক।

উল্লেখ্য, এ হত্যাকাণ্ডে ওয়াসিমের সঙ্গে আরও তিনজন জড়িত ছিল বলে গত ৩ সেপ্টেম্বর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন। 

জানা যায়, আটক ওয়াসিম আকরামে বাড়ি একই ইউনিয়নের লক্ষণপুর গ্রামে। বর্তমানে সে পার্শ্ববর্তী বড় মেহেদিপুর গ্রামে নতুন বাড়িতে বসবাস করছে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে সবার বড়। এ বছর স্থানীয় একটি ফাজিল মাদ্রাসা থেকে পাস করে বেগমগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর হানিফ ভূঁইয়া স্কুল এন্ড কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, অভিযুক্ত চারজনের চলাফেরা ছিল এলাকার বখাটেদের সঙ্গে। তারা কাউকেই পরোয়া করতো না। তাদের মধ্যে- আবদুর রহমান ও রনি পেশায় পিকআপ চালক, জাফর চালকের সহকারীর কাজ করে। তারা এলাকায় বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডসহ ইয়াবা ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। ওয়াসিম ধরা পড়ার খবর শুনে তারাএলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।

বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নূরে আলম বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণের পর গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় রনিকে গতকাল রাতে ফেনী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আজ আদালতে সোপর্দ করা হবে। 

উল্লেখ্য, নিখোঁজের তিনদিন পর সন্ধ্যায় বাজারের একটি পরিত্যক্ত ঘরে মাছের বাক্সে পলিথিন মোড়ানো অবস্থায় শিশু এমরান হোসেন (৭) এর লাশ উদ্ধার করা হয়। ২২ আগস্ট দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে যায়নি।

ওয়াসিম পুলিশকে জানিয়েছে, তার ৪ জন মিলে ছয়ানি বাজার থেকে ২২ আগস্ট রাতে এমরানকে ধরে নিয়ে সহিদের পরিত্যক্ত একচালা টিনের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটির মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকলে তার গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর তার মরদেহ মাছের ঝুড়িতে পলিথিন মোড়ানো অবস্থায় ভরে ওই ঘরে লুকিয়ে রাখে। ২৫ আগস্ট রাতে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।