• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৭ রাত

শিক্ষকের বেত্রাঘাতে শিক্ষার্থীর চোখ নষ্টের আশঙ্কা

  • প্রকাশিত ০৪:০৪ বিকেল সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯
হবিগঞ্জ

অভিযুক্ত শিক্ষক বেত ছুড়ে মারলে তা হাবিবার চোখে গিয়ে আঘাত করে

হবিগঞ্জে শিক্ষকের ছোড়া বেতের আঘাতে হাবিবা আক্তার (৮) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর চোখ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যাদবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু জাফর।   

গুরুতর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল নেয়া হয়। তবে, সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। 

স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রবিবার দুপুরে ক্লাশ চলাকালীন সময়ে শিক্ষক নিরঞ্জন দাস একটি বেত ছুড়ে মারলে তা হাবিবার চোখে লাগে। এর কিছুক্ষণ পর চোখ থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এতে হাবিবার সহপাঠিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে হাবিবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। 

এদিকে এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু জাফর। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীসহ স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং এলাকাবাসির সাথে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানেন।  

ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, "তদন্ত চলছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসির সাথে আলোচনা হয়েছে। শীঘ্রই তদন্ত রিপোর্ট পেশ করা হবে।"

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ মিঠুন রায় জানান, "হাবিবার চোখের ভেতর আঘাত লাগার কারণে তার চোখ খুবই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। চোখটি ভাল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।"

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক নিরঞ্জন দাশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "ঘটনার সময় আমি ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়া নিচ্ছিলাম। কিন্তু ক্লাসের দরজার সামনে কিছু শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে হৈ-চৈ করছিল, আমি তাদের বারবার ধমক দিলেও তারা সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে। এতে হাতে থাকা বেত ছুড়ে মারলে তা গিয়ে অসাবধান বশত হাবিবার চোখে লাগে।" 

যাবদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুন নুর জানান, "বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আজ দুপুরে তদন্ত দল সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।" 

হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রেজ্জাক জানান, "কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বেত দিয়ে আঘাত করার কোন বিধান নেই। শিক্ষার্থীকে চোখের আঘাতের বিষয়টি আজ দুপুরে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে দোষী হলে অবশ্যই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।"