• বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৩ বিকেল

‘গণধর্ষণের শিকার হওয়ায়’ তালাক, অভিযুক্তের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে বিপাকে ওসি

  • প্রকাশিত ০৯:০৯ রাত সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯
পাবনা
পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হক ও ধর্ষণে অভিযুক্ত রাসেল আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ বলেন, ‘রাসেলকে পুলিশ আটকের পর থানায় নিয়ে আসে। এরপর ওসির নির্দেশে কাজী ডেকে থানার মধ্যেই আমাদের বিয়ে দিয়েছেন’

পাবনা সদর উপজেলায় তিন সন্তানের জননীকে গণধর্ষণের অভিযোগ দায়েরের পরদিন থানায় ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত ধর্ষকের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) এঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি অভিযোগকারীর সাথে অভিযুক্তকে থানা অভ্যন্তরে বিয়ের দেওয়ার ঘটনায় পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হককে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মো. ফিরোজ আহমেদকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। বাকিরা হলেন কোর্ট ইন্সপেক্টর ও ডিআই-১।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন সন্তানের জননী ওই নারীর বাড়ি পাবনা সদর উপজেলায়। নারীর অভিযোগ, এক সহযোগীসহ প্রতিবেশী রাসেল আহমেদের বাড়িতে গত ২৯ আগস্ট ধর্ষণের শিকার হন তিনি। ঘটনার দুইদিন পর গত ৩১ আগস্ট একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে নিয়ে তিনদিন আটকে রেখে সেখানেও রাসেলসহ চার-পাঁচজন তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি ওই নারী বাড়ি ফিরে স্বজনদের জানালে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 

অপরদিকে, গণধর্ষণের শিকার হওয়ায় তিন সন্তানের জননী ওই নারীকে ৫ সেপ্টেম্বরই ডিভোর্স দেন তার স্বামী। 

এরপর পুলিশ রাসেলকে আটক করলেও পরবর্তীতে তার সঙ্গে অভিযোগকারী ওই নারীকে থানায় ডেকে এনে বিয়ে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে।

দাপুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য দৌলত আলী জানান, তার উপস্থিতিতেই এলাকা থেকে পাবনা সদর থানার এস আই একরামুল হক ধর্ষণের অভিযোগে রাসেলকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। দৌলত বলেন, “পরে জানতে পেরেছি রাসেলের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ বলেন, “পুলিশ রাসেলকে আটকের পর থানায় নিয়ে আসে। এরপর ওসির নির্দেশে কাজী ডেকে থানার মধ্যেই আমাদের বিয়ে দেওয়া হয়।”

অন্যদিকে ধর্ষণে অভিযুক্ত রাসেল বলেন, “রিমান্ডে নেওয়ার ভয় দেখিয়ে পুলিশ জোর করে আমাকে বিয়ে দিয়েছে। আমি নির্দোষ। আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।”

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হক সোমবার বিকেলে বলেন, “প্রথমদিকে মেয়েটির কোনো অভিযোগ ছিল না। পরে পরিবারের সম্মতিতে রাসেলের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে থানায় কোনো বিয়ে হয়েছে কিনা এতথ্য আমার কাছে নেই।”

এদিকে অভিযোগ না থাকার কথা বলা হলেও সোমবার দুপুরে ওই নারী রাসেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন সদর থানার ওসি।