• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪০ সন্ধ্যা

কুড়িগ্রাম থেকে আবারও মহাবিপন্ন বনরুই উদ্ধার

  • প্রকাশিত ০৮:০১ রাত সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯
বনরুই
কুড়িগ্রাম থেকে উদ্ধারকৃত বনরুই। ছবি: বন বিভাগের সৌজন্যে

‘যেহেতু প্রাণীটিকে সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাই পাচারের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না’

কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরী উপজেলা থেকে আবারও থেকে মহাবিপন্ন বনরুই উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট।

গত রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানা থেকে বনরুইটি উদ্ধার করেন রংপুরের সামাজিক বন বিভাগের ডিএফও রফিকুজ্জামান শাহ। পরে তার কাছ থেকে খবর পেয়ে বন বিভাগের অপরাধ দমন ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুর থেকে বনরুইটি উদ্ধার করে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনে নিয়ে আসেন।

রফিকুজ্জামান শাহ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “পুলিশের দেওয়া খবর পেয়ে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানা থেকে বনরুইটিকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে পুলিশ সেটিকে কুড়িগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নিয়ে আসে। পরে বিষয়টি আমরা বনপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালককে জানাই। তিনি লোক পাঠিয়ে প্রাণীটিকে ঢাকায় নিয়ে যান।”


আরো পড়ুন - শকুন সংরক্ষণে বাংলাদেশ, কী করছে সরকার?


নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মোহাম্মদ পলাশ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “নাগেশ্বরীর বলদিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম থেকে বনরুই আটকের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এলাকার লোকজন আমাদের জানান, সেটি বনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের কথা বিশ্বাসযোগ্য মনে না হলে আমরা স্থানীয় কর্তাব্যক্তিদেরকে বলে আসি, বনরুইটি যার কাছেই থাকুক সেটিকে যেন দ্রুত থানায় জমা দেওয়া হয়। অন্যথায় সমস্যা হবে। পুলিশের এমন মন্তব্যে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি সেটিকে থানায় জমা না দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে জমা দিয়ে সরে পড়েন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দেওয়া খবর পেয়ে বনরুইটিকে উদ্ধার করে আমরা থানায় নিয়ে এসে রংপুর বন বিভাগকে জানাই।”

 বাংলাদেশ বনরুই মহাবিপন্ন প্রাণীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ছবি: বন বিভাগের সৌজন্যে  

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আল-ইমরান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এক ব্যক্তি বনরুইটি আমাদের অফিসের নিয়ে আসলে আমরা ঘটনাটি পুলিশকে জানাই।” তবে নতুন দায়িত্ব নেওয়ায় বনরুই নিয়ে আসা ব্যক্তির নাম-পরিচয় বলতে পারেননি এই কর্মকর্তা।

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিক ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, এটি চায়না বনরুই (Chinese pangolin)। প্রাণীটির বৈজ্ঞানিক নাম (Manis crassicaudata)। এটি বাংলাদেশে মহাবিপন্ন (critically endangered) অবস্থায় আছে। দেশের বরেন্দ্র এলাকা ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অল্পসংখ্যক বনরুই টিকে রয়েছে। তবে কুড়িগ্রাম-ভারত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায়ও মাঝে মাঝে বনরুই দেখা যায় বলে খবর পাওয়া যায়।


আরো পড়ুন - বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে বাংলাদেশ কি ব্যর্থ হতে যাচ্ছে?


নাগেশ্বরীতে বনরুই উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, “চলতি বছরের মে মাসেও নাগেশ্বরী থেকে একটি উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে সেটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়। সেটি ছিল পুরুষ বনরুই। কিন্তু গত রবিবার উদ্ধার করা বনরুইটি স্ত্রী। এমনও হতে পারে মে মাসে উদ্ধারকৃত বনরুইয়ের জোড়া ছিল এটি। আবার যেহেতু প্রাণীটিকে সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাই পাচারের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”

উদ্ধারকৃত বনরুইটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি ও সুস্থ আছে জানিয়ে আব্দুল্লাহ আস সাদিক বলেন, “বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসীম মল্লিক বৃহস্পতিবার দুপুরে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বনরুইটি অবমুক্ত করতে পারেন।”