• শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ দুপুর

বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত: শুধু লাশটিই ফেরত চান মা

  • প্রকাশিত ০৯:৫০ রাত সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯
বিএসএফ
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফ। ফাইল ছবি। রয়টার্স

আমরা কিছুই চাই না, শুধু আমাদের বাবলুর লাশ ফেরত চাই

ভারতীয় সীমান্তরক্ষীর গুলিতে নিহত গরুর রাখাল বাবলু মিয়া (২৪) লাশ ও আটক সাইফুল ইসলামকে (১৪) ফেরত আনার দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকার ৫ শতাধিক নারী পুরুষ।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের জোতনবীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় এলাকাবাসীর সাথে মানববন্ধনে অংশ নেন নিহত বাবলুর বিধবা স্ত্রী রজিফা বেগম, বাবা নুর মোহাম্মদ,  মা আছিয়া খাতুন, বড় ভাই রাসেল মিয়া, ছোট ভাই লিটন ও খোকন, বোন পারভিন আক্তার, নার্গিস আক্তার, সিমু আক্তার, আন্না বেগম। মানববন্ধনে ৫১ বিজিবির সহযোগিতায় নিহত বাবলু ও বিএসএফের হাতে আটক থাকা সাইফুলকে ফেরতের দাবি জানান এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকালে স্কুল মাঠে সীমান্তে চোরাচালান, মানবপাচাররোধে গণসচেতনার জন্য ৫১ বিজিবির পক্ষে মতবিনিময় সভার ডাক দেওয়া হয়েছিল। এ জন্য আগের দিন বিজিবি এলাকায় মাইকিংসহ ঢোল সহরত (ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা) করেছিল। কিন্তু বাবলুর লাশ ও আটক সাইফুলকে ফেরতের দাবি নিয়ে এলাকাবাসীর মানববন্ধন কর্মসুচির কারণে ওই সভা বিজিবি স্থগিত করে। এ ব্যাপারে ৫১ বিজিবির পক্ষেকোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মানববন্ধনে বাবলুর বাবা মা আছিয়া খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমরা কিছুই চাই না, শুধু আমাদের বাবলুর লাশ ফেরত চাই। ঘটনার ৯ দিন অতিবাহিত হলেও আমরা আজও বাবলুর লাশ ফেরত পাইনি। আমরা দেশের মাটিতে বাবলুর লাশ দাফন করতে চাই।

এদিকে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নিহত বাবলুর স্ত্রী যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তিনি ডুকরে ডুকরে কাঁদছিলেন আর চোখের পানি ফেলছিলেন। এক সময় চিৎকার করে বলতে থাকেন, আমার স্বামীর লাশ এনে দেন। শেষবারের জন্য তাকে একবার দেখতে চাই।


আরো পড়ুন - বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আহত আরেকজন আটক


অপর দিকে বিএসএফের হাতে আটক সাইফুলের বাবা ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়শিঙ্গেশ্বর গ্রামের গোলজার রহমান বলেন, আমার ছেলেকে ফেরত চাই। আমি ও নিহত বাবলুর পরিবার ৫১ বিজিবির কাছে বার বার ধর্না দিয়েও কোনো আশার আলো দেখতে পাইনি। এমনকি গত রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিহত বাবলু ও আটক সাইফুলকে ফেরত আনারদাবিতে৫১ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার (সিও) স্যারের কাছে লিখিত আবেদন নীলফামারীর ডিমলা ইউএনওমাধ্যমে প্রদান করি।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা ও লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম তিস্তা নদীর চর সীমানায় গরু চড়াতে ও ঘাস কাটতে গেলে সীমান্তের ৭৭২ প্রধান পিলালের কাছে ভারতীয় সীমান্তরী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মোহাম্মদ বাবলুর মিয়া(২৪) নিহত হন।

এ সময় বাবলুর সঙ্গে থাকা চৌদ্দ বছরের বালক সাইফুল ইসলাম আহত হয়। বাবলুর লাশসহ আহত বালককে বিএসএফ ভারতে নিয়ে যায়।

এলাকাবাসী জানান, বাবুলের বাড়ি সীমান্তবর্তী কালিগঞ্জ গ্রামের তিস্তা নদীর চরে। নদীর ওপারেই পাটগ্রামের দহগ্রাম সীমান্ত। ঘাস খাওয়ানোর জন্য তার সঙ্গে থাকা গরু দেখে বিএসএফ ভেবে নেয় গরু চোরাকারবারী। সেটি ভেবেই গুলি করতে পারে তাকে। এরপর তার লাশ নিয়ে যায় বিএসএফ।

এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায় ভারতীয় বিএসএফে বাবলুর মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে কুচবিহার হাসপাতালের মরচ্যুয়ারীতে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। অপর দিকে আহত সাইফুল ইসলামের চিকিৎসা শেষে তাকে জলপাইগুড়ির কিশোর সুরক্ষা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।