• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৪ সকাল

ছাত্রলীগ নেতা রাব্বানীই ছিলেন মোটরসাইকেল নিয়ে বেদীতে ওঠা সেই যুবক!

  • প্রকাশিত ০৬:৫৫ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯
রাবি ছাত্রলীগ রাব্বানী
রাবি ছাত্রলীগ নেতা রাব্বানীর বিরুদ্ধে শহীদ মিনারের বেদীতে বাইক নিয়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা ট্রিবিউন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাই আমাকে এতো প্রশ্ন কইরেন না, আমি সব জড়িয়ে ফেলবো’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ মিনারের বেদীতে মোটরসাইকেল চালিয়ে সমালোচিত সেই যুবকের পরিচয় জানা গেছে। তিনি হলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক গোলাম রাব্বানী রবি। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর)  বিভিন্ন গণমাধ্যমে শহীদ মিনারের বেদীতে এক যুবকের বাইক চালানোর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন সজীবের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বেদীতে বাইক চালানো ওই ব্যক্তি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক গোলাম রাব্বানী রবি। 

এ বিষয়ে বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বললেও রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের লাইভ অনুষ্ঠানে রবি দাবি করেন, শহীদ মিনারের বেদীতে বাইক চালানো সেই যুবক তিনি নন। 

তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীসহ একাধিক সূত্রে রাব্বানীই বেদীতে বাইক চালিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও রাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন সজীব বলেন, “আমরা শহীদ মিনারের সামনে আড্ডা দিচ্ছিলাম। বেদীর ওপরের উত্তর-পূর্ব কোণে কয়েকজন বসেছিলেন। আমাদের আড্ডার একপর্যায়ে রবি বাইক স্টার্ট দিয়ে হঠাৎ করেই শহীদ মিনারের বেদিতে উঠে পড়ে। এমন কর্মকাণ্ডে উপস্থিত সবাই অবাক হই। নেমে আসার পর এজন্য তাকে আমরা বকাঝকা করি।”

ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, ওইসময় হঠাৎ করেই এক যুবক বাইক নিয়ে বেদীতে উঠে পড়েন। পরে তাদেরকে রাব্বানীর ছবি দেখানো হলে তারা নিশ্চিত করেন, ‘‘তিনিই রাতে বাইক নিয়ে বেদীতে উঠেছিলেন।’’

ছবি: ঢাকা ট্রিবিউনএ বিষয়ে অভিযুক্ত গোলাম রাব্বানী বলেন, আমাকে জড়িয়ে শহীদ মিনার বেদীতে মোটরসাইকেল চালানোর সংবাদ গণমাধ্যমে ছাপানো হয়েছে। সেখানে রাত ১১টার কথা বলা হয়েছে। অথচ আমি মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রুমে চলে যাই। শহীদ হবিবুর রহমান হলের ৩৩৮ নম্বর কক্ষে তিনি থাকেন বলে জানান রাব্বানী। 

ওই কক্ষের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের কাছে মঙ্গলবার রাতে রাব্বানীর রুমে ফেরার সময় জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘‘তিনি কখন রুমে ফিরেছেন সঠিক বলতে পারব না। তবে আমরা রাতে দেড়টা-দুইটা পর্যন্ত জেগেছিলাম। ততক্ষণেও তিনি ফেরেন নি।’’

এ বিষয়ে আবারও জানতে চাইলে রাব্বানী বলেন, ‘‘ভাই আমাকে এতো প্রশ্ন কইরেন না, আমি সব জড়িয়ে ফেলবো।’’ এরপর তিনি অসংলগ্ন কিছু উত্তর দিয়ে ‘সময় নেই’ বলে চলে যান।

এদিকে, এ ঘটনায় গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশসান। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে নোটিশ দিয়েছে রাবি শাখা ছাত্রলীগ।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর)  বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার বেদিতে মোটসাইকেল চালিয়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে আপনার বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকায় বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। শহীদ মিনারের সঙ্গে বাঙালি জাতির আবেগ ও অনুভূতি জড়িত। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-শৃঙ্খলার পরিপন্থী। আপনার বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এ মর্মে লিখিত জবাবসহ আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রক্টর অফিসে উপস্থিত হতে বলা হলো।”

এছাড়া, তার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা লিখিত আকারে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে রাবি শাখা ছাত্রলীগের দফতর সেলে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া এবং সাধারণ ফয়সাল আহমেদ রুনু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে আড্ডা দিচ্ছিলেন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। আড্ডার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে থেকে ছাত্রলীগের নেতা গোলাম রাব্বানী রবি জুতা পায়ে বাইক চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার বেদীতে ওঠেন। পরদিন বুধবার বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও প্রিন্ট গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা।