• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৮ রাত

জাবিতে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন: দুই পক্ষের আলোচনায় যেসব সিদ্ধান্ত এলো

  • প্রকাশিত ০৯:৩৮ সকাল সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯
জাবি আলোচনা
জাবিতে সংকট সমাধানের আলোচনা শেষে ব্রিফ করছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তের বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে আইনি পরামর্শের জন্য তিন কার্যদিবস সময় নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ তিনদফা দাবির চলমান আন্দোলনে সৃষ্ট সংকট সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যকার আলোচনা শেষ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে আলোচনা শুরু হয়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে শেষ হয়।

আলোচনায় আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুটি দাবি মেনে নিয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্ত দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আর প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তের বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে আইনি পরামর্শের জন্য তিন কার্যদিবস সময় নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগামী বুধবার পরবর্তী আলোচনায় এবিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

এদিন রাত পৌনে ৯টায় রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) রহিমা কানিজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আন্দোলনরতদের পক্ষে আলোচনার সিদ্ধান্তগুলো গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরে বলেন, আলোচনা সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের প্রথম দাবি ছিল, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের তিনপাশ থেকে নির্মাণাধীন তিনটি দশতলা হল সরিয়ে বিকল্প স্থান নির্বাচন। এ দাবির বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের পূর্ব ও দক্ষিণ পাশ থেকে ২১ ও ২২ নম্বর হল সরিয়ে নেওয়া হবে। অতিদ্রুত আলোচনার মাধ্যমে নতুন স্থান নির্বাচন করা হবে। এছাড়া, একটি খেলার মাঠ সংরক্ষণের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের উত্তর পাশ থেকে ২০ নম্বর হল পশ্চিম দিকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এবিষয়ে আইনি পরামর্শের জন্য বুধবার পর্যন্ত সময় নেওয়া হয়েছে।  

আন্দোলনকারীদের তিন নম্বর দাবি ছিল- মাস্টারপ্ল্যান পুনর্বিন্যাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন।

এ দাবির বিপরীতে মোট চারটি সিদ্ধান্ত এসেছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার। সেগুলো হলো- পর্যালোচনার মাধ্যমে মাস্টারপ্ল্যানের প্রয়োজনীয় সংশোধন করে তা পর্যবেক্ষণের জন্য বর্তমানে যে বিশেষজ্ঞ কমিটি রয়েছে তা পুনর্গঠন করা হবে। প্রকল্পের গুণগত মান নিরীক্ষার জন্য একটি বিশেষায়িত কমিটি গঠন করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আর প্রকল্প ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানাতে সর্বদলীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে গঠিত কমিটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিস অবহিত করবে।  

প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এ আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে অংশ নেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নুরুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) রহিমা কানিজ,  প্রকল্প পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আহসান হাবিব। 

অপরদিকে, আন্দোলনরতদের পক্ষে অংশ নেওয়া ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ প্ল্যাটফর্মের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ২২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের জন্য গত বছরের ২৩ অক্টোবর ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক)। এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে পাঁচটি আবাসিক হল নির্মাণের জন্য গত ১ মে টেন্ডার আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ছাত্রলীগের টেন্ডার ছিনতাই, মাস্টারপ্ল্যানে অস্বচ্ছতা-অপরিকল্পনা, গাছ কাটা ও সর্বশেষ ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে উপাচার্যের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিন দফা দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলন করে আসছিলেন।