• শনিবার, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৫ দুপুর

সাত ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে মিনিস্টার রেফ্রিজারেটর কারখানার আগুন

  • প্রকাশিত ০২:৫১ দুপুর সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯
অগ্নিকাণ্ড
শুক্রবার গাজীপুরে মিনিস্টার রেফ্রিজারেটরের কারখানায় আগুন লাগে ঢাকা ট্রিবিউন

কারখানায় ফায়ার অ্যালার্ম ও অগ্নি নির্বাপণের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ছিল না

গাজীপুরের ধীরাশ্রম এলাকায় মাইওয়ান ইলেকট্রনিক্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মিনিস্টার হাই-টেক পার্ক লিমিটেডের কারখানার আগুন অবশেষে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কিন্তু তার আগেই হাইটেক পার্কের ৫ ও ৬ তলা পুরোপুরি পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে গাজীপুর জেলা প্রশাসন। 

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে আগুনের সুত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাত ঘণ্টার চেষ্টায় বেলা সোয়া দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা। 

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ বলেন, “কারখানা ভবনটি ৬ তলা বিশিষ্ট। এর ৬ তলাতেই আগুনের সূত্রপাত হয়। কিন্তু কিভাবে আগুনের সূত্রপাত তাৎক্ষণিকভাবে তা বলা সম্ভব হচ্ছে না। কারখানা ভবনের ষষ্ঠতলা ও পঞ্চমতলা পুড়ে গেছে। দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। তাছাড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেই কারখানাটিতে। এঘটনায় এখনো কেউ হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।”

টঙ্গী কলকারাখানা অধিদপ্তরের সহকারী মহা-পরিদর্শক মোতালিব মিয়া জানান, “এই কারখানায় নিয়মিত অগ্নি-নির্বাপণ মহড়ার আয়োজন করা হতো না। ছয়তলার ওপরে গুদাম রাখারও নিয়ম নেই। কারখানায় ফায়ার অ্যালার্ম ও অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ছিল না। এব্যাপারে প্রায় তিন সপ্তাহ (আনুমানিক ২০/২২দিন) আগেও আমরা নোটিশ দিয়েছিলাম। নোটিশের বিপরীতে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো জবাব দেয়নি। একারণে কলকারখানা অধিদপ্তর তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।”

কোম্পানির হেড অব মিডিয়া কে এম জি কিবরিয়া জানান, কারখানায় তৈরি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স হোম অ্যাপ্লান্স প্রোডাক্ট ষষ্ঠ তলায় মজুদ করে রাখা ছিল। তবে সেখানে কত টাকার পণ্য সামগ্রী ছিল সেবিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেননি তিনি।

মিনিস্টার হাইটেক পার্ক লিমিটেডে উপ-মহা ব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম বলেন, “শুক্রবার কারখানাটি বন্ধ ছিল। কারখানায় রাইস কুকার, ইস্ত্রিসহ প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রিক পণ্য তৈরি ও টিভি, ফ্রিজ সংযোজন করা হতো। দুই হাজার কর্মী এখানে কাজ করেন। উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী কারখানা ভবনের ষষ্ঠ তলায় মজুদ রাখা ছিল। কিভাবে আগুন লাগতে পারে বা কী পরিমাণ মালামাল ওই গুদামে ছিল তা এমুহূর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না।” পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা ও অগ্নিনির্বাপণের মহড়া না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান।

মাই ওয়ান ইলেকট্রনিক্স ও মিনিস্টার হাই-টেক পার্ক লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক খান অগ্নি নির্বাপনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না রাখার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, “ওইসময় কারখানায় কাজ বন্ধ ছিল। কীভাবে ছয় তলায় আগুন লাগল তা আমরা এখনও বুঝতে পারছি না।”

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শফিউল্লাহকে (এডিসি-শিক্ষা) প্রধান করে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে আগামী সাত কর্ম দিবসের মধ্যে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রতিবেদন জামা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে গাজীপুরের মেয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সংরক্ষিত আসনের এমপি শামসুন্নাহার ভূঁইয়া, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম তরিকুল ইসলাম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।