• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৫১ সন্ধ্যা

লালমনিরহাটে বিএসএফের বাধায় মসজিদের নির্মাণ কাজ বন্ধ

  • প্রকাশিত ০৯:১৭ রাত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯
লালমনিরহাট
কেরামতিয়া বড় মসজিদ। ঢাকা ট্রিবিউন

শুক্রবার মসজিদের দ্বিতীয় তলার জানালার কাঁচ স্থাপনের কাজ করতে গেলে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনের অজুহাত তুলে বাধা দেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা দোলাপাড়া সীমান্তে কেরামতিয়া বড় মসজিদের দুই তলা ভবনের নির্মাণ কাজে বাধা দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ওই মসজিদের জানালা নির্মাণ কাজে বাধা দেয় ভারতের শিতলকুচি থানার অমিত ক্যাম্পের বিএসএফের একটি টহল দল। এ ঘটনায় বাংলাদেশি লোকজনসহ মসজিদের নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোলাপাড়া সীমান্ত এলাকায় মোঘল আমলে কেরামতিয়া হজুর নামে এক দরবেশ বসবাস করতেন। তার সহযোগিতায় সেখানে ওই সময়ে একটি ছোট মসজিদ নির্মাণ করেছিল স্থানীয় লোকজন। দরবেশের মৃত্যুর পর তাকে মসজিদের পাশেই সমাহিত করা হয়। পরে মসজিদটি বড় আকারে নির্মাণ করা হয়। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় মসজিদ ও মাজারটি সীমান্তের জিরো লাইনে (নো ম্যান্স ল্যান্ড) পড়ে। কেরামতিয়া হুজুরের মাজার ও মোঘল আমলের মসজিদকে কেন্দ্র করে প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো নারী-পুরুষ নানা নিয়তে নামাজ পড়তে যায়। শুক্রবার মসজিদের দ্বিতীয় তলার জানালার কাঁচ স্থাপনের কাজ করতে গেলে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনের অজুহাত তুলে বাধা দেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।

মসজিদ কমিটির সম্পাদক আলিমুদ্দিন জানান,  ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের উচ্চ পর্যায় থেকে মসজিদের নকশা অনুমোদন হওয়ার পর ওই বছরের ২৯ এপ্রিল দুই তলা মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে এ মসজিদ নির্মাণের কাজ এখনো চলছে। গত কয়েক দিন ধরে মসজিদের দুই তলায় জানালায় কাঁচ লাগানোর কাজ চলছিল। কিন্তু শুক্রবার দুপুরে ভারতীয় বিএসএফ ওই নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।

আলিমুদ্দিন বলেন, দুই দেশের মধ্যে নকশা অনুমোদন হওয়ার পর আমরা মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু করি। কিন্তু ভারতীয় বিএসএফ নানা অজুহাতে নির্মাণ কাজে বাধা দেয়। জানালায় রঙ্গিন কাঁচ লাগাতে বাধা দিলে আমরা সাদা কাঁচ লাগাতে শুরু করি। কিন্তু শুক্রবার সেই কাঁচ লাগাতেও বাধা দেওয়া হয়।

রংপুর-৬১ বিজিবির বড়খাতা কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ইব্রাহিম মোল্লা জানান,  বিএসএফের বাধায় নির্মাণ কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএসএফের সাথে আলোচনা চলমান রয়েছে।