• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:১৭ বিকেল

প্রত্যাবাসনে ‘আরসা’ বাধা দিচ্ছে কিনা জানতে চাইলো চীনা প্রতিনিধিদল

  • প্রকাশিত ০৭:১৪ রাত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯
রোহিঙ্গা ক্যাম্প
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রু কোনারপাড়া নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

ঘুমধুম চীন-মৈত্রী সড়ক হয়ে মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের আলাদা দুটি প্রতিনিধি দল। 

রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দল দুটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গেও কথা বলেন।

রোববার বিকেল ৩টার দিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রু কোনারপাড়া নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। 

পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন ওই ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, "চীনের প্রতিনিধিদল আমাদের শিবির পরিদর্শন করেছেন। এ সময় আমাদের কাছে তিনি জানতে চান, কী করলে রোহিঙ্গা রাখাইনে ফিরে যাবে? উত্তরে আমরা বরাবরের মতো আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো উত্থাপন করেছি।"

"এক পর্যায়ে লি জিমিং জানতে চান, রাখাইনে অবস্থানরত ‘আরসা’ (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি) সদস্যরা আমাদের বাধা দিচ্ছে কিনা বা প্রত্যাবাসনে ‘আরসা’ কোনো সমস্যা সৃষ্টি করছে কিনা। প্রতি উত্তরে আমরা বলেছি, আমাদের কেউ বাধা দিচ্ছে না। আমরা নাগরিকত্ব ও রাখাইনে কেড়ে নেওয়া ভিটে-মাটি ও নিরাপত্তা দিলে স্বদেশে ফিরে যাবো।" 

পরে ঘুমধুম চীন-মৈত্রী সড়ক হয়ে মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপির) সঙ্গে এপারে দাঁড়িয়ে কথা বলেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন, কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত) শামসুদ্দৌজা নয়নসহ কর্মকর্তারা। 

সোমবার দ্বিতীয় দিনের মত চীনের প্রতিধিদলের টেকনাফ রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। 

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত) শামসুদ্দৌজা নয়ন বলেন, তিনদিনের সফরে চীনের রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এবং এক দিনের সফরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার নেতৃত্বে আলাদা একটি দল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। চীনের প্রতিনিধিদল তুমব্রু কোনারপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট ঘুরে দেখেছেন। এ সময় রোহিঙ্গাদের দাবিগুলো মনযোগ দিয়ে শোনেন তারা।

অপরদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া এক্সটেনশন ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। পরে বিকেলে ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তারা। এসময় প্রতিনিধি দলটি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে প্রত্যাবাসন ইস্যুতে কথা বলেন এবং রোহিঙ্গাদের সেবা ও খাদ্য সহায়তার কার্যক্রমগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। তারপর বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে তারা কক্সবাজার ত্যাগ করেন।