• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০০ রাত

আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে শিশু সন্তানসহ নারীকে জেলে পাঠানোর অভিযোগ

  • প্রকাশিত ০৬:৩২ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯
পঞ্চগড় মাদক
ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

ওই নারী ও তার স্বামীকে আসামি করে অস্ত্র আইনে মামলা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

মাদক না পেয়ে এক বছর বয়সী শিশু সন্তানসহ এক নারীকে জেলহাজতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় ওই নারীর স্বামীর ভাইকে আটকের পর ৫০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছে এলাকাবাসী। 

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার প্রেমচরণজোত গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার বিকেলে পঞ্চগড় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল মান্নান ও তার সঙ্গে থাকা অন্যান্যদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 

অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি দল প্রেমচরণজোত এলাকার লিটনের বাড়িতে অভিযান চালায়। লিটন বাড়িতে না থাকায় ঘরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। 

অভিযোগ, এসময় বাড়ির ভেতরে থাকা লিটনের মা মঞ্জুমা বেওয়া (৭০), স্ত্রী ঝর্ণা বেগম ও ভাই খাজা নাজিমউদ্দিনকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তারা ঝর্ণা বেগমকে একটি ওয়ান শ্যুটার পিস্তলসহ আটক করে এক বছরের শিশু সন্তানসহ থানায় নিয়ে গিয়ে অস্ত্র আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। 

সোমবার রাতেই তেঁতুলিয়া মডেল থানায় লিটন ও ঝর্ণাকে আসামি করে অস্ত্র আইনে মামলা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। 

লিটনের পরিবারের অভিযোগ, লিটনকে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তার স্ত্রীকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা জানান, অভিযানের সময় লিটনের সেজ ভাই খাজা নাজিম উদ্দিনকে বিনা কারণে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে জোরপূর্বক গাড়িতে তুললে উদ্যত হন অভিযুক্তরা। পরে ৫০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে  তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। টাকা দাবি করায় লিটনের বড় ভাই মানিক মিয়া পুলিশের ৯৯৯ ও দুদকের ১০৬ নাম্বারে ফোন করে বিষয়টি জানালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ঝর্ণা বেগমকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে দেন। 

লিটনের বড় ভাই মো. মানিক মিয়া ও প্রতিবেশীরা জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে লিটন ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গত রবিবার রাতে তিনি বাড়ি ফেরেন। পরদিন আকস্মিক এই অভিযান চালানো হয়। 

এ বিষয়ে লিটন জানান, “১০ দিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হই। আমার সঙ্গে আমার মা ও স্ত্রী ছিলেন। রবিবার রাতে আমরা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে আসি। সোমবার আমি বাইরে ছিলাম। পরে শুনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শিশু সন্তানসহ আমার স্ত্রীকে ধরে নিয়ে গেছে তারা। প্রমাণসাপেক্ষে আমার অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। আমার স্ত্রী-সন্তানকে ধরে নেওয়া হলো কেন? নিশ্চয়ই এটা ষড়যন্ত্র।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পঞ্চগড় মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল মান্নান বলেন, “তাদের আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা। লিটন সরকারি তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি। তার বাড়িতে অভিযান পরিচালনার সময় ভুলক্রমে তার বড় ভাই খাজা নাজিম উদ্দিনকে আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তল্লাশির সময় লিটনের স্ত্রীর কাছে একটি ওয়ান শ্যুটার গান পাওয়া যায়। পরে লিটন ও ঝর্ণাকে আসামি করে আমি বাদি হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা করি।”

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি জহুরুল ইসলাম বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছে একটি পিস্তল পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।