• সোমবার, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৫ রাত

পাকা স্থাপনাকে জলাভূমি দেখিয়ে ইফার মডেল মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব!

  • প্রকাশিত ০৩:৪৯ বিকেল সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯
ঝালকাঠি ইফা
ঝালকাঠিতে স্থাপনাসহ এই জমিকেই জলাভূমি দেখিয়ে মডেল মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে ঢাকা ট্রিবিউন

ইসলামী ফাউন্ডেশন বলছে, জেলা সদরের সুবিধাজনক পয়েন্টে মসজিদটি নির্মিত হলে সরকারের উদ্যোগ স্বার্থক হবে। সুন্দর একটি স্থাপনা বড় সড়কের পাশে হলে অপেক্ষাকৃত বেশি মানুষের উপকারে আসবে

ঝালকাঠিতে পাকা স্থাপনাকে জলাভূমি দেখিয়ে মডেল মসজিদ করার উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামী ফাউন্ডেশন। প্রাথমিকভাবে এ জমি পছন্দ করে চূড়ান্ত অধিগ্রহনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। 

কিন্তু ওই জমির মালিকদের দাবি, ইফার বেছে নেওয়া অংশে তাদের বাড়িঘরসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নার্সারি রয়েছে যা তাদের আয়ের উৎস। 

তাই প্রস্তাবিত জায়গার পরিবর্তে ৬০ ফুট দূরে তাদেরই মালিকানাধীন ফাঁকা জমিতে মসজিদ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ইসলামী ফাউন্ডেশন বলছে, জেলা সদরের সুবিধাজনক পয়েন্টে মসজিদটি নির্মিত হলে সরকারের উদ্যোগ স্বার্থক হবে। সুন্দর একটি স্থাপনা বড় সড়কের পাশে হলে অপেক্ষাকৃত বেশি মানুষের উপকারে আসবে।

এই জমির মালিকদের মধ্যে রয়েছেন- সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট অহিদুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী আলমগীর খান, জাহাঙ্গীর খান, মোতাহার আলী, সেলিনা বেগম ও রফিকুল ইসলাম।

তারা জানান, জেলা প্রশাসনের ভুমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে পাওয়া এল এ মামলা নম্বর ৬/২০১৭-১৮ মামলায় জারি হওয়া ৪(১) ধারার নোটিশের মাধ্যমে তাদের মালিকানাধীন ৪০ শতাংশ জমি মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানতে পারেন।

ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তাদের আপত্তির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী, ধর্মমন্ত্রী এবং বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত আকারে জানিয়েছেন। 

জমির অন্যতম মালিক অহিদুল ইসলাম বলেন, “জীবনের শেষ সঞ্চয় দিয়ে ৯ শতাংশ জমি কিনে এখানে পাকা স্থাপনা করেছি। এখান দালানের ভাড়া দিয়ে আমার পরিবারের খরচ চলে। এখন এই জমি অধিগ্রহন করা হলে আমি পথে বসবো।”

এদিকে, তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার এলাকা পরিদর্শন করেন।

এসময় তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও নার্সারি রক্ষায় মসজিদটি ৬০ ফুট উত্তর দিকে সরিয়ে নির্মাণের চেষ্টা করা হবে বলে জমির মালিকদের আশ্বাস দেন। তারাও মসজিদের জন্য দক্ষিণ দিক থেকে ১৫ ফুট প্রশ্বস্ত রাস্তার জন্য জমি দেওয়ার ঘোষণা দেন। 

এ বিষয়ে ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক (ঝালকাঠি) মো. মশিউর রহমান বলেন, “১৬ কোটি টাকা ব্যায়ে ৪০ শতক জমিতে মডেল মসজিদটি নির্মাণ করা হচ্ছে। আমরা মসজিদের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে জমি বরাদ্দ চেয়েছি। উপজেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার কার্যালয় বিষয়টি দেখে। জমি বরাদ্দের বিষয়ে আমাদের কোনো হাত নেই।”

তিনি জানান, ইতোমধ্যে মসজিদ নির্মাণকাজের দরপত্র সম্পাদনের কাজ শেষ হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে। এ জমি নিয়ে ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে (২৪/৯)মামলা চলছে।