• শনিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৮ রাত

জাবিতে শিক্ষক-ছাত্রলীগ নেতাদের মুঠোফোন সেবা বন্ধের অভিযোগ

  • প্রকাশিত ০৬:১৫ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে শিক্ষকরা পুনরায় নেটওয়ার্ক পরিসেবা ফিরে পেলেও ছাত্রলীগ নেতাদের মুঠোফোন সেবা এখনও বন্ধ রয়েছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক উপ-উপাচার্যসহ বিভিন্ন বিভাগের ছয় শিক্ষক এবং শাখা ছাত্রলীগের চার নেতার মুঠোফোন সেবা বন্ধের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষকদের মুঠোফোন সেবা পুনরায় সচল হলেও ছাত্রলীগ নেতারা এখনও মুঠোফোন সেবা ফেরত পাননি।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) থেকে তারা মুঠোফোন সেবা পাচ্ছিলেন না বলে জানা গেছে।

এদিন সন্ধ্যা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারের শিক্ষক লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক রায়হান রাইন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, একই বিভাগের অধ্যাপক তারেক রেজা এবং পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের মুঠোফোন সেবা বন্ধ হয়ে যায়। 

রাত ১১টার দিকে তারা পুনরায় নেটওয়ার্ক পরিসেবা ফিরে পান। এ সময়ের মধ্যে তারা কল করতে কিংবা রিসিভ করতে পারেননি।

এই ছয় শিক্ষকের মধ্যে উপ-উপাচার্য আমির হোসেন ছাড়া সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। 

এদিকে, মঙ্গলবার বিকেল থেকে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, সহ-সভাপতি নিয়ামুল হাসান তাজ ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মোল্লার মুঠোফোন সেবা বন্ধ হয়ে যায়। রাতে বন্ধ হয়ে যায় শাখা ছাত্রলীগের আরেক সহ-সভাপতি হামজা রহমান অন্তরের মোবাইল সেবাও।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাতে সদ্য পদচ্যুত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সাথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেনের মুঠোফোনে হওয়া একটি কথোপকথন ফাঁস হয়। 

সেখানে সাদ্দাম রাব্বানীকে জানান, ঈদের আগে উপাচার্য জাবি ছাত্রলীগের তিনটি পক্ষকে এক কোটি টাকা ভাগ করে দিয়েছেন। যেখান থেকে সভাপতি মো. জুয়েল রানা ৫০ লাখ, সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল ২৫ লাখ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ও তার অনুসারীরা ২৫ লাখ টাকা পেয়েছেন। 

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা টাকা ভাগাভাগির বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করেন। 

পরদিন সাদ্দাম হোসেন, শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নিয়ামুল হাসান তাজ ও হামজা রহমান অন্তর গণমাধ্যমে টাকা ভাগাভাগির কথা স্বীকার করেন। 

ওই ঘটনার পর গতকাল রাতে সংবাদ সম্মেলনে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘‘টাকা ভাগাভাগির বিষয়টি জানানোর পর থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন মহল আমাকে হুমকি দিচ্ছে। মোবাইলে পরিচয় না দিয়ে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। আমাদের মোবাইলের ইনকামিং ও আউটগোয়িং সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের চাপে ফেলার অপকৌশল এটি।’’