• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৩০ বিকেল

জাবি ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা: রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার দাবি

  • প্রকাশিত ০৫:১৬ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
ড. ফারজানা ইসলাম
জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। ঢাকা ট্রিবিউন

স্বেচ্ছা পদত্যাগে আগামী পহেলা অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর একটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে মিছিলটি শুরু হয়ে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। 

সমাবেশে বক্তারা উপাচার্যকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আইনে তার বিচার দাবি করেন।   

এর আগে বুধবার দুর্নীতির অভিযোগের বিচার-বিভাগীয় তদন্ত দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের আলোচনা ফলপ্রসু না হওয়ায় উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি ও ভর্তি পরীক্ষায় ভবনগুলোতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। স্বেচ্ছা পদত্যাগে আগামী পহেলা অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের কার্যকরী সদস্য রাকিবুল হক রনি বলেন, ‘‘ছাত্রলীগ নেতারা স্বীকার করেছেন, উপাচার্য তাদের হলে টাকা পৌঁছে দিয়েছেন। জনগণের রক্ত পানি করা টাকার লুটপাট মেনে নেওয়া হবে না। পদত্যাগের মাধ্যমে উপাচার্যকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’’

ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার বলেন, ‘‘সারা দেশের মানুষ জেনে গেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দুর্নীতিতে জড়িত। এ অবস্থায় দেশের কেউ চায় না তিনি উপাচার্য পদে থাকুক। শুধুমাত্র পদত্যাগ এই অপরাধের শাস্তি হতে পারে না।’ ’

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ প্ল্যাটফর্মের অন্যতম সংগঠক আশিকুর রহমান বলেন,‘‘একজন শ্রমিকের ট্যাক্সের টাকা ছাত্র নেতাদের মাঝে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনো ভাবেই মেনে নেবে না। উপাচার্য সসম্মানে পদ ছেড়ে না দিলে তাকে বাধ্য করা হবে।’’

নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তসলিমা নাসরিন বলেন, ‘‘টাকা ভাগাভাগির মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার পরে তিনি আর কোনোভাবেই এই সম্মানিত পদে থাকতে পারেন না। আমরা আজকের অবস্থানে আসতে বাধ্য হয়েছি।’’

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ প্ল্যাটফর্মের মুখপাত্র দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন,‘‘উপাচার্য উন্নয়ন প্রকল্পকে ব্যবসাক্ষেত্রে পরিণত করেছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার চাই। এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর তাকে আর উপাচার্য হিসেবে দেখতে চাই না।’’