• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বশেমুরবিপ্রবি প্রশাসনের নতি স্বীকার

  • প্রকাশিত ০৬:২৭ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
বশেমুরবিপ্রবি
বশেমুরবিপ্রবি প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

‘ফেসবুকে স্ট্যাটাস ও কমেন্টকে কেন্দ্র করে কোনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হবে না। এমনকি কোনো শিক্ষার্থীকে ফেসবুকে লেখালেখির জন্য বহিষ্কার করবে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ’

শিক্ষার্থীদের উপাচার্য (ভিসি) বিরোধী আন্দোলনের মুখে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসেছে প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৪টি সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজিস্ট্রার মো. নুরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের বাকস্বাধীনতা নিশ্চয়তাসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।

ওই বিজ্ঞপ্তির ৪ নম্বর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হবে এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হবে না। আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ডেকে এনে অপমান করা হবে না।”

ফেসবুকে লেখালেখির বিষয়ে ওই আদেশের ১২ নম্বরে বলা হয়েছে, “ফেসবুকে স্ট্যাটাস ও কমেন্টকে কেন্দ্র করে কোনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হবে না। এমনকি কোনো শিক্ষার্থীকে ফেসবুকে লেখালেখির জন্য বহিষ্কার করবে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।”

প্রসঙ্গত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মত প্রকাশ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে গত ১১ সেপ্টেম্বর বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ।


আরও পড়ুন- উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল বশেমুরবিপ্রবি


এ ঘটনায় সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠলে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে। ওইদিন রাত সাড়ে ৯টায় শিক্ষার্থীরা ভিসির অপসারণের দাবিতে ক্যাম্পাসেআন্দোলন শুরু করে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভিসির অপসারণ আন্দোলনের ঘোষণা দেয়। 

পরদিন (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শিক্ষার্থীরা ভিসিবিরোধী আন্দোলন শুরু করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। ইতোমধ্যে আন্দোলনকারীরা ভিসির অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন করার ঘোষণা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘আমাদের এখন একটাই দাবি, ভিসির অপসারণ। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমরণ অনশন চালিয়ে যাব। তিনি (ভিসি) বিএনপি-জামায়াতপন্থী। বঙ্গবন্ধুর পবিত্র মাটি গোপালগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতপন্থী ভিসি থাকতে পারবে না। আন্দোলনের মুখে তারা ১৪টি সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের ভোলানো যাবে না।’’ 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. নূর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীদের বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৪টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। ফেসবুকে স্ট্যাটাস ও কমেন্টকে কেন্দ্র করে কোনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হবে না। এমনকি কোনো শিক্ষার্থীকে ফেসবুকে লেখালেখির জন্য বহিষ্কার করবে না প্রশাসন।’’

অভিযুক্ত ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, ‘‘আমরা শিক্ষার্থীদের বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ১৪ দফা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কল্যাণমুখী এ সিদ্ধান্তে অধিকাংশ শিক্ষার্থী আন্দোলন থেকে সরে গেছেন। আন্দোলন প্রায় থেমে গেছে।’’

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘আমি বিএনপি-জামায়াত পন্থী নই। শিক্ষার্থীরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। গত দুই বছরে ৩৪ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিলো। যা ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’’