• শনিবার, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩৪ সকাল

বেঞ্চের নিচে মাথা ঢুকিয়ে শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেন শিক্ষিকা!

  • প্রকাশিত ০৬:৫১ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
মাদারীপুর শিক্ষিকা
অভিযুক্ত শিক্ষিকা আয়শা সিদ্দিকা ঢাকা ট্রিবিউন

অনেকেই তার ভয়ে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। একাধিক অভিযোগ সত্ত্বেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি

মাদারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পড়া না পারায় বেঞ্চের নিচে মাথা দিয়ে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আয়শা সিদ্দিকা নামে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, তার ভয়ে স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে শিশুরা।

এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষিকার অপসারণে কর্তৃপক্ষ তিনদিন সময় নেয়। কিন্তু সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে সন্তানদেরকে বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন অভিভাবকেরা।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে স্কুলমাঠে বিক্ষোভ করেছেন।

গত শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পড়া না পারায় ৫ম শ্রেণির ছয় শিক্ষার্থীকে বেঞ্চের নিচে মাথা ঢুকিয়ে রেখে শাস্তি দেন। এতে তিন শিক্ষার্থীর নাক দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে।

বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি তিন দিনের সময় চেয়ে নেন। কিন্ত সেই তিন দিন পার হয়ে গেলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায়, অভিভাবকরা সন্তানদেরকে বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রী তৃষা দাসের মা মিলি দাস বলেন, আয়শা ম্যাডাম দীর্ঘক্ষণ বেঞ্চের নিচে মাথা দিয়ে আমার মেয়েকে শাস্তি দিয়েছেন।মাথা ওঠালেই স্কেল দিয়ে পিঠে আঘাত করেছেন। আমি মেয়েকে পড়াশোনা করতে পাঠিয়েছ, মার খেতে নয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা আয়শা সিদ্দিকা বলেন, স্কুলে পড়া না পারায় আমি শিক্ষার্থীদের শাস্তি দিয়েছি। এটা ভুল হয়েছে। তবে সকালে না খেয়ে আসার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাঈমা আক্তার বলেন, আমি তার বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।

এ বিষয়ে জানতে স্কুল ম্যানেজিং কমেটির সভাপতি জালাল মাহমুদের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি, “দূরে আছি কথা বলতে পারবো না,” বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফোন বন্ধ করে দেন।

বিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোখলেসুর রহমান জানান, অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি জবাব দিয়েছেন। ইতোমধ্যে সেটা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদ জানান, আমি বিষয়টি শুনেছি, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।