• শনিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৮ রাত

স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জেরে দুই শিশু সন্তানসহ শ্যালিকাকে গলাকেটে হত্যা

  • প্রকাশিত ০৮:৩৮ রাত সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
নারায়ণগঞ্জ হত্যা
নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ঢাকা ট্রিবিউন

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জেরে শ্যালিকা ও তার দুই শিশু কন্যাকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আব্বাস ব্যাপারী (৩৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার হাউজের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্বাস ব্যাপারী। জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা সাজ্জাদ রোমন ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

নিহতরা হলো- নাজমিন বেগম (২৬), তার দুই মেয়ে নুসরাত (৮) ও খাদিজা (২)।

বৃহস্পতিবার সিদ্ধিরগঞ্জের সিআই খোলা এলাকার বাসা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এছাড়া, ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় অভিযুক্ত আব্বাস ব্যাপারীর মেয়ে সুমাইয়াকে (১৫) উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দুপুরে নিহত নাজমিনের স্বামী সুমন মিয়া এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, “মূলত পারিবারিক কলহের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আনুমানিক সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।” 

পুলিশ সুপার জানান, “পারিবারিক কলহের জেরে আব্বাসের স্ত্রী ইয়াসমিন বোনের (নাজমিন) বাসায় চলে আসেন। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। এদিন সকালে তিনি ওই বাসা থেকেই কর্মস্থলে যান। সেখানে গিয়ে ইয়াসমিনকে না পেয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে শ্যালিকা ও তার দুই মেয়েকে হত্যা করে আব্বাস। নিজের প্রতিবন্ধী মেয়েকেও জখম করে সে।”

আব্বাসের মেয়ে সুমাইয়া পুলিশকে জানিয়েছে, বাবাই তাকে হত্যার চেষ্টা করেছে এবংতার খালা ও খালাতো বোনদেরকে হত্যা করেছে। 

নিহত নাজমিনের ছোট ভাই হাসান জানান, “প্রায়ই মাদক সেবন করে বাড়ি ফিরে আব্বাস মিয়া সবাইকে মারধর করতো। এ কারণে মেয়েদেরকে নিয়ে ইয়াসমিন বুধবার বোনের বাসায়  চলে যায়।”

নাজমিনের স্বামী সুমন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে স্ত্রী ও দুই মেয়ের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে পুলিশকে খবর দেন। 

এ বিষয়ে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা (ডিআই-২) সাজ্জাদ রোমন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”