• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৭ রাত

বসতঘর থেকে ধরা হলো মা গোখরা, মারা হলো ১৪ বাচ্চা

  • প্রকাশিত ০৮:২৪ রাত সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
সাপ
গোখরা সাপের ডিম ও বাচ্চা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

ঘরের অর্ধেক মাটি কাটা শেষ হলে বড় সাপের খোলস, ১৪টি বাচ্চা ও ২১টি সাপের ডিম পাওয়া যায়

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের একটি বসতঘর থেকে ১৪টি বাচ্চাসহ বিষধর গোখরা সাপ আটক করেছে স্থানীয়রা। এসময় সাপের ২১টি ডিমও উদ্ধার করা হয়। তবে সাপের বাচ্চাগুলো হত্যা ও ডিমগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়ী গ্রামের হরপ্রসাদ মন্ডলের বসতঘর থেকে সাপ ও ডিম উদ্ধার করা হয়।

হরপ্রসাদ মন্ডল বলেন, “আমার ঘরের কার্নিশ দিয়ে ৩টি কেউটে সাপের বাচ্চা চলাচল করতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আমি স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাপের বাচ্চা ৩টি মেরে ফেলি। কিন্তু সন্দেহ হয় যে বাচ্চাগুলো হয়তো ঘরের মধ্যে কোথাও যাচ্ছিল। এমন সন্দেহ থেকেই শুক্রবার ভোরে কয়েকজন যুবককে নিয়ে ঘরের মেঝের মাটি কোপাতে শুরু করি। এর পরপরই মেঝে থেকে বেরিয়ে আসতে থাকে একেকটি কেউটে সাপের বাচ্চা। ঘরের অর্ধেক মাটি কাটা শেষ হলে বড় সাপের খোলস, ১৪টি বাচ্চা ও ২১টি সাপের ডিম পাওয়া যায়। তবে সাপের বাচ্চাগুলোকে মেরে ফেলা হলেও মা সাপ ধরতে না পারার ফলে আতংক বিরাজ করছিল। পরে স্থানীয় সাপুড়েরা চেষ্টা চালিয়ে মা সাপকে জীবিত অবস্থায় ধরতে সক্ষম হয়।”

এঘটনার পর থেকেই ওই এলাকায় সাপ আতংক বিরাজ করছে বলে জানান হরপ্রসাদ।


আরো পড়ুন - চাঁদপুরে ধরা পড়েছে ভয়ংকর বিষধর ‘রাসেল ভাইপার’ সাপ


তবে হরপ্রসাদ মন্ডলের বসতঘর থেকে আটক করা সাপ ও বাচ্চার ছবি ঢাকা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে পাঠানো হয় বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলাকে। ছবি দেখে তিনি এটিকে গোখরা সাপ বলে চিহ্নিত করেন।

জোহরা মিলা বলেন, “এটি মনোসিলেড কোবরা যা বাংলায় ‘গোখরা সাপ’ হিসেবে পরিচিত। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম বিষাক্ত সাপ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ সাপটি ফসলের খেত, জলাভূমি, বন ও মানুষের বসতিতে বাস করে। সাধারণত জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে স্ত্রী সাপ ৮ থেকে ১৮টি ডিম পাড়ে এবং ডিম না ফুটে বাচ্চা বের হওয়া পর্যন্ত মা সাপ ডিমের সাথেই থাকে। নিশাচর এই সাপটি মাছ, ইদুর, ব্যাঙ, টিকটিকি, ছোট সাপ ইত্যাদি খেয়ে থাকে। সাপটি সারাদেশেই কমবেশি দেখা যায়।”

একসঙ্গে এতগুলো বাচ্চা ও ডিম পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “একইস্থানে একাধিক সাপ ডিম পাড়া অস্বাভাবিক নয়।”