• সোমবার, অক্টোবর ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:১৮ দুপুর

গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশিত ০৩:৩১ বিকেল সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯
গোপালগঞ্জ
উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ঢাকা ট্রিবিউন

শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে গোবরা, সোনাকুড়, নবীনবাগ এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। আহত অন্তত ১০ শিক্ষার্থীকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ভিসির পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর জেরে ভিসি সমর্থকের হামলায় অন্তত ২০শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে গোবরা, সোনাকুড়, নবীনবাগ এলাকায় হামলার ঘটনাটি ঘটে। আহত অন্তত ১০ শিক্ষার্থীকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

হামলার খবর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়লে উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে, জয় বাংলা চত্বর, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। 

বর্তমানে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও মূল ফটকের বাইরে অবস্থান নিয়ে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। দফায় দফায় ভিসি-বিরোধী আন্দোলনকারীদের অবস্থান থেকে সরাতে ভিসি পন্থীরা ধাওয়া দিচ্ছে। উৎকণ্ঠা উত্তেজনা ও আশঙ্কার মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তারা।

এর আগে শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. নূরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আদেশ জারি করা হয়। চিঠিতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪৪ ধারা জারি করার জন্য জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ মোতায়নের জন্য পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করা হয়।


আরও পড়ুন: বশেমুরবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা, হল ত্যাগের নির্দেশ


আন্দোলনরত আহত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানান, শুক্রবার রাত থেকে হলে খাবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে হলে বিদ্যুৎ ও পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পথে ভিসি সমর্থক ও বহিরাগতরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নবীনবাগ, সোনাকুড় ও গোবরায় মারপিট করেছে। এতে ২০জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে তারা দাবি করে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ সকল প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের সড়কে সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

দুর্নীতিবাজ, ভর্তি ও নিয়োগ বাণিজ্যকারী ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক টর্চার সেলে পরিণত করেছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। বিএনপি-জামায়াতপন্থী এই ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও দ্য ডেইলি সানের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ফাতেমা-তুজ-জিনিয়িাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অন্যায়ভাবে সাময়িক বহিষ্কার করে। পরে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের তীব্র আন্দোলনের মুখে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. নূরউদ্দিন আহমেদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসককে ১৪৪ ধারা জারি ও পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ ক্যাম্পাসে মোতায়নের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা-ধাওয়ার বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।

গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়টি আমার জানা নেই।”