• রবিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৩২ সকাল

রাজশাহীর পুকুর থেকে কুমির উদ্ধার!

  • প্রকাশিত ০৫:৪৩ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯
কুমির
উদ্ধারের পর কুমিটির দায়িত্ব বুঝে নেন বন বিভাগের কর্মীরা। বন বিভাগ

সকালে দাঁতব্রাশ করতে গিয়ে তিনি পুকুরে কুমিরটিকে ভাসতে দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মিয়াপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে মিঠা পানির কুমির উদ্ধার করেছে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মীরা।

রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি বাড়ির পুকুর থেকে কুমিরটি উদ্ধার করা হয়।

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিক ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মী, ফায়ার সার্ভিস, চারঘাট মডেল থানা পুলিশের মিলিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘ ৯ ঘন্টার চেষ্টায় কুমিরটি উদ্ধার করা হয়। কুমিরটি লম্বায় ৮ ফুট, ওজন প্রায় ৭০ কেজি।

কুমির উদ্ধার করা পুকুরটির পাশের বাড়ির বাসিন্দা জয়নাল হোসেন জানান, রবিবার সকালে দাঁতব্রাশ করতে গিয়ে তিনি পুকুরে কুমিরটিকে ভাসতে দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।


আরো পড়ুন - কুড়িগ্রাম থেকে আবারও মহাবিপন্ন বনরুই উদ্ধার


কুমির উদ্ধারে নেতৃত্ব দেওয়া রাজশাহী বিভাগীয় বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, পুকুরে কুমির রয়েছে এমন খবরে বন বিভাগের কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা চান। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে জাল দিলে কুমিরটি ধরার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর পুকুরের পানি সেচতে শুরু করেন। পানি কমে এলে একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে কুমিরটির দেখা পাওয়া যায়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাল ফেলে কুমিরটিকে আটক করতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

কুমির উদ্ধার অভিযান। ছবি: বন বিভাগ

চারঘাটের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিন রেজা (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বাঘা) ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “প্রাণীটি উদ্ধারের পর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “কুমিরটি বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির তত্ত্বাবধায়নে আছে। প্রাণীটি সুস্থ আছে। আমরা এটিকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”


আরো পড়ুন - শকুন সংরক্ষণে বাংলাদেশ, কী করছে সরকার?


পুকুরে কুমির এলো কীভাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “যে পুকুরে কুমির পাওয়া গেছে তার সাথে একটি ড্রেনেজ পদ্মা নদীর সাথে সংযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে সেই সংযোগ দিয়েই কুমিরটি পুকুরে আসতে পারে। আবার পাচারকারীরাও বিপাকে পরে কুমিরটি ছেড়ে দিতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এদিকে রাজশাহী থেকে উদ্ধার করা কুমিরটি গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন বন সংরক্ষক (অর্থ ও প্রশাসন) মিহির কুমার দো।

তিনি বলেন, “কুমিরটি বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের রাজশাহী রেসকিউ সেন্টারে আছে। সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রাণীটি ঢাকায় আনতে সপ্তাহখানের সময় লাগবে। পরে এটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে অবমুক্ত করা হবে।”


আরো পড়ুন - মুন্সীগঞ্জে ‘বাঘের’ ঘোরাফেরা, আসল রহস্য কী?