• বুধবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩৫ রাত

খুলনায় বয়সের তুলনায় বাড়ছে না বেশিরভাগ শিশুর উচ্চতা

  • প্রকাশিত ০৭:১৭ রাত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯
অপুষ্টি
ঢাকা ট্রিবিউন

খুলনার তিনটি উপজেলার ১৭ ইউনিয়নে অপুষ্টির শিকার হচ্ছে শিশুরা।

খুলনার তিনটি উপজেলার ১৭ ইউনিয়নে অপুষ্টির শিকার হয়ে শিশুরা খর্বাকৃতিসহ নানা সমস্যায় ভুগছে। বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া ও পাইকগাছা উপজেলার এই ১৭টি ইউনিয়নে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৭০ ভাগই খর্বাকৃতির (বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা) বলে জানা গেছে। 

তথ্য অনুযায়ী, ৭০ শতাংশের মধ্যে ১৮ ভাগ শিশু মারাত্মক খর্বাকৃতির। আর ২৪ ভাগ শিশু মাঝারি খর্বাকৃতির ও ২৬ ভাগ শিশু মৃদু খর্বাকৃতির। বাকি ৩০ ভাগ শিশু স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে।

ম্যাক্সনিউট্রিওয়াশ খুলনা জেজেএস প্রজেক্টের আওতায় চলতি বছরের জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১৭টি ইউনিয়নে এই জরিপকাজ সম্পন্ন করে। জরিপে শিশুদের ওজন ও উচ্চতা পরিমাপ করে এই চিত্র পাওয়া যায়। 

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রেসকাবে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে পুষ্টি বিষয়ে গোলটেবিল বৈঠকে এতথ্য উপস্থাপন করা হয়।

১ হাজার ৭৫০টি উঠান দলের মাধ্যমে উঠান বৈঠকে উপস্থিত হওয়া ১৩ হাজার ৭৫৫ শিশুর মধ্যে জরিপটি চালানো হয়। কার্যক্রমে দুই বছর ও পাঁচবছরের কম বয়সী শিশুদের ভাগ করে জরিপ করা হয়। 

জেজেএস খুলনার কর্মকর্তা তৌহিদা সুলতানা জানান, ম্যাক্সনিউট্রিওয়াশ খুলনা জেজেএস প্রজেক্টের আওতায় খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা, বটিয়াঘাটা, সুরখালী ও গঙ্গারামপুর ইউনিয়ন; ডুমুরিয়া উপজেলার ভাণ্ডারপাড়া, সাহস, শরাফপুর, খর্নিয়া, ডুমুরিয়া, শোভনা, আটলিয়া, রংপুর, গুটুদিয়া, রঘুনাথপুর, ধামালিয়া ও রুদাঘরা ইউনিয়ন এবং পাইকগাছা উপজেলার দেলুটি ইউনিয়ন এলাকায় ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে চারবছর মেয়াদি কার্যক্রম করা হয়। এপ্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীর তালিকায় পাঁচবছরের কম বয়সী শিশু, কিশোর-কিশোরী, প্রতিবন্ধী, গর্ভবতী নারী ও দুগ্ধদানকারী মা, দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারের সদস্য, নবদম্পতি, বিধবা ও ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। 

১৭টি ইউনিয়নের ৮২ হাজার ৫৯৯টি খানায় ৬ লাখ ২৫ হাজার ৩৯৯ জন মানুষ রয়েছে। এখানে ৩৯১টি স্কুলও রয়েছে।

তৌহিদা সুলতানা আরও জানান, ১৭টি ইউনিয়নে দুই বছরের কম বয়সী পাঁচ হাজার ৯১২টি শিশু মধ্যে ১ হাজার ১০০ জন মারাত্মক খর্বাকৃতির, ১ হাজার ৩৫৫ জন মাঝারি খর্বাকৃতির, ১ হাজার ৪৭৪ জন মৃদু খর্বাকৃতির, ২৭ জন ওভার হাইট (বয়সের তুলনায় বেশি উচ্চতা) এবং ১ হাজার ৮৭৬ জন স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। 

আর পাঁচবছরের কম বয়সী ৭ হাজার ৮৪৩টি শিশুর মধ্যে ১ হাজার ৩৯৮ জন মারাত্মক খর্বাকৃতির, ১ হাজার ৯৬৬ জন মাঝারি খর্বাকৃতির, ২ হাজার ১৫২ জন মৃদু খর্বাকৃতির, ২১ জন ওভার হাইট এবং ২ হাজার ৩৫১ জন স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। 

তিনি আরও জানান, অপুষ্টি ও পরিবেশগত সমস্যার কারণে এসমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। যা অসচেতনতা ও পুষ্টি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে সৃষ্টি। সমস্যা সমাধানে পুষ্টিজ্ঞান সঠিকভাবে জানানো, সচেনতা সৃষ্টির কাজ চলছে। আর সমস্যার উন্নতি হচ্ছে কিনা তা মনিটরিংয়ের জন্য দুইবছরের কম বয়সী শিশুদের প্রতি মাসে ওজন ও উচ্চতা পরিমাপ করা হয়। আর পাঁচবছরের কম বয়সী শিশুদের প্রতি তিনমাসে ওজন ও উচ্চতা পরিমাপ করা হয়।