• বুধবার, এপ্রিল ০১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৭ রাত

স্বামী খুনের পেছনে দুই সতীনের দ্বন্দ্ব?

  • প্রকাশিত ০৮:১৮ রাত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯
ঠাকুরগাঁও
স্বামী হত্যার অভিযোগে আটক গৃহবধূ মালেকা। ঢাকা ট্রিবিউন

দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণা বেগম নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আদালতে স্বামীসহ সতীন মালেকার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে তৃতীয় স্ত্রী মালেকা বেগমও একই আইনে স্বামীসহ দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন

ঠাকুরগাঁওয়ে স্বামীকে হত্যার পর পুলিশে ফোন করে স্বীকারোক্তি দেওয়া সেই গৃহবধূ দাবি করেছেন, নিজেকে বাঁচাতে গিয়েই ওই দুর্ঘটনা (হত্যা) ঘটেছে।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও সদর থানায় আটক অবস্থায় ওই গৃহবধূ উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন।

তবে ওই গৃহবধূর এই বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায়নি ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী পুলিশসূত্রে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) আশিকুর রহমানের দাবি, দুই সতীনের দ্বন্দ্বের সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্বামীকে অতর্কিতে আঘাত করেন স্ত্রী মালেকা বেগম। আর এতেই স্বামী শরিফুল ইসলাম (৪০)মারা যান।

নিহত শরিফুল ইসলাম ঐ ইউনিয়নের কুমারপুর গ্রামের নকিবর রহমানের ছেলে ও আটককৃত মালেকা(২৭) একই ইউনিয়নের মজিবর রহমানের মেয়ে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) চিত্তরঞ্জন আটক গৃহবধূকে জিজ্ঞাসাবাদ ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বলেন, ২০০৬ সালে পারিবারিকভাবে শরিফা বেগম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন শরিফুল ইসলাম। এরপর ২০০৭ সালে ওই নারীর মৃত্যু হয়। এরপর ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বার ঝর্ণা বেগম নামে আরেক নারীকে বিয়ে করেন শরিফুল ইসলাম। পরে ২০১২ সালে দ্বিতীয় স্ত্রী থাকতেই প্রতিবেশী বগুড়া বস্তি গ্রামের বাসিন্দা মালেকা বেগমের সাথে শরিফুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ও বিয়ে হয়। এ নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্ত্রীর মাঝে বিরোধ শুরু হয়। এর জেরে দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণা বেগম নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আদালতে স্বামীসহ সতীন মালেকার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে তৃতীয় স্ত্রী মালেকা বেগমও একই আইনে স্বামীসহ দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন।

মামলা হওয়ার পর থেকেই তাদের সংসারে বিরোধ চলছিল উল্লেখ করে চিত্ত রঞ্জন রায় বলেন, “ডারাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা প্রতিবেশী শফিকুল ইসলামের বাড়িতে গত এক মাস ধরে ভাড়া থাকতেন মালেকা বেগম। সোমবার দিবাগত রাতে ওই বাড়িতে স্বামী শরিফুল ইসলাম আসেন। এরপর তৃতীয় স্ত্রী মালেকা বেগমের সাথে তার কথা কাটাকাটি ও খানিকটা হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে মালেকা বেগম তার স্বামীকে বসিলা (কুড়ালের মতো এক ধরনের দেশীয় অস্ত্র) দিয়ে মাথায় কুপিয়ে হত্যা করেন।”


আরো পড়ুন - পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর হাতে খুন স্বামী


পুলিশ পরিদর্শক চিত্তরঞ্জন বলেন, “রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে তৃতীয় স্ত্রী মালেকা বেগম সদর থানার এসআই ভুষণ চন্দ্র বর্মনকে ফোন করে জানান তিনি (গৃহবধূ) তার স্বামী শরিফুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্যই ওই নারীর ফোন থেকে বাড়ির মালিক শফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলা হয়, এরপর তিনিও হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।”

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার ও তৃতীয় স্ত্রী মালেকা বেগমকে আটক করা হয় বলে জানান চিত্তরঞ্জন।

তবে গৃহবধূ মালেকার সাংবাদিকদের বলেন, “আমার স্বামী শরিফুল ইসলাম আমাকে হত্যার চেষ্টা করে; আমি প্রাণ বাঁচাতে গেলে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।” এ সময় গালে আঘাতের চিহ্ন দেখান গৃহবধূ।

সাংবাদিকদের কাছে মালেকার এই দাবি প্রসংগে ওসি তদন্ত বলেন, “এ ধরনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। হাতাহাতি বা বচসার পর যখন নিহত শরিফুল ঘরে বিছানায় বসেছিলেন তখনই হঠাৎ বসিলা দিয়ে প্রচণ্ড জোরে আঘাত করেন মালেকা।”

হত্যার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “তদন্তে সব বেড়িয়ে পড়বে। তবে এ পর্যন্ত যা জানা গেছে, মেয়েটি এই বিয়ে করে সর্বশান্ত হয়ে পড়ে। একদিকে বাবা-মা’র আশ্রয়ও হারায় অন্যদিকে স্বামীর সাথেও তার বনিবনা হয় না। আবার মামলায়ও জড়িয়ে পরে। ফলে ভয়াবহ ক্ষোভের বিস্ফোরণ হিসেবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।”

এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল হালিম সোমবার দুপুরে টেলিফোনে ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, তিনি তখন পর্যন্ত লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করতে ব্যস্ত ছিলেন, এখনো গ্রেফতারকৃত মালেকা বেগম ও অন্যদের সাথে কথা বলার সময় পাননি তিনি।

সুরতহাল সম্পর্কে আব্দুল হালিম বলেন, “নিহতের মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কোনো ধাঁরালো অস্ত্রের কোপেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।”