• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

যে কারণে রাজধানীর ক্যাসিনোতে নেপালিদের চাহিদা বেশি

  • প্রকাশিত ০৮:২৯ রাত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯
ক্যাসিনো
ঢাকার ক্যাসিনোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান সৈয়দ জাকির হোসাইন/ঢাকা ট্রিবিউন

নেপালের নাগরিকরা বোর্ড পরিচালনার পাশাপাশি বাংলাদেশি কয়েকজনকেও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন

‘হিমালয় কন্যা’খ্যাত নেপাল পর্যটনের জন্য সারাবিশ্বে সুপরিচিত। এই পর্যটনশিল্পকে কেন্দ্র করেই নেপালে গড়ে উঠেছে ক্যাসিনো।

বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বৈধভাবে ক্যাসিনো চালু করা হয় নেপালে। বর্তমানে দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডুতে ৯টি ও রাজধানীর বাইরে ২টি ক্যাসিনো আছে। প্রতিটি ক্যাসিনোতে রয়েছে কমপক্ষে ৩০০'র মতো কর্মী।

এসব ক্যাসিনোর বাইরে নেপাল-ভারত সীমান্তে দুই ডজনের বেশি ছোট ক্যাসিনো রয়েছে।

তবে নেপালের আইন অনুযায়ী, দেশটির নাগরিকরা ক্যাসিনোতে জুয়া খেলতে পারেন না। এগুলো শুধুই বিদেশি নাগরিকদের জন্য।

রাজধানী ঢাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত ক্যাসিনোতে নেপালের অনেক নাগরিক কাজ করতেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে বিষয়টি উঠে এসেছে।

কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, যেসব ক্যাসিনোতে অভিযান চালানো হয়েছে সেখানে শতাধিক নেপালের নাগরিক কাজ করতেন। এদেরমধ্যে ছিলেন অনেক নারী নেপালি কর্মীও।

প্রশ্ন হচ্ছে, এসব ক্যাসিনোতে নেপালের নাগরিকরা কেন কাজ করতেন?

প্রথমত, ক্যাসিনোর জন্য যেসব জুয়ার বোর্ড আনা হয়েছে সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ লোক বাংলাদেশে নেই। তাছাড়া নেপালি নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ক্যাসিনোগুলোকে একটু অভিজাত চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ক্যাসিনো মালিকরা।





 

ক্যাসিনো চিপস। ছবি: সৈয়দ জাকির হোসাইন/ঢাকা ট্রিবিউন

র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফিউল্লাহ বুলবুল বিবিসি’কে জানিয়েছেন, চারটি ক্যাসিনোতে অভিযান পরিচালনায় সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। সেখানে ১৬জন নেপালের নাগরিক থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

“নেপালিরা মূলত ম্যানেজমেন্টের কাজ করতেন। ক্যাসিনো পরিচালনায় তারা দক্ষ,” জানান তিনি।

নেপালের নাগরিকরা এসব বোর্ড পরিচালনার পাশাপাশি বাংলাদেশি কয়েকজনকেও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

ঢাকার ক্যাসিনোগুলোতে নেপালের নাগরিকদের অধিকাংশই বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন বলে জানান পুলিশের এক কর্মকর্তা। তবে কয়েকজন নেপালি নাগরিক কয়েকটি ক্যাসিনোতে অংশীদার ছিল বলে জানান তিনি।

তাছাড়া নেপালের নাগরিকদের বেতন অন্যদেশের ক্যাসিনো অপারেটরদের তুলনায় কম।

কর্মকর্তারা বলেছেন, ক্যাসিনো পরিচালনায় যেসব নেপালের নাগরিক সম্পৃক্ত ছিলেন তাদের মাধ্যমে দেশের বাইরে অর্থপাচার করতে সুবিধা হতো, এমন তথ্যও পেয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা।

গত রবিবার মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে পুলিশের অভিযানে ১৬জন নেপালের নাগরিক সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ঢাকার ক্যাসিনোতে নেপালি নাগরিকদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলেও নিরাপত্তাবাহিনী কাউকে আটক করেনি।

বিবিসির আরও জানিয়েছে, ক্যাসিনো পরিচালনায় নেপালিরা বেশ দক্ষ। ক্যাসিনো পরিচালনার জন্য নেপালিরা বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলংকা, তাইওয়ান, আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজ করছে।