• রবিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৭ রাত

‘মাদক ব্যবসায়ীর’ বাড়ি চিহ্নিতকরণ অসাংবিধানিক

  • প্রকাশিত ০৬:১১ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৯
হিলি মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি
সম্প্রতি দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা হিলির মাদক ব্যবসায় অভিযুক্তদের বাড়িতে এভাবে চিহ্নিত করে বিজিবি ঢাকা ট্রিবিউন

বিজিবি'র এমন কর্মকাণ্ডকে অসাংবিধানিক এবং বেআইনি বলে আখ্যায়িত করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা

সম্প্রতি দেশের কয়েকটি জেলায় সন্দেহভাজন মাদক বিক্রেতাদের বাড়ির সামনে ‌‌‌‌‌‘মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি’ লেখা সম্বলিত সাইনবোর্ড টানিয়ে দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এ ধরনের সাইনবোর্ড লেখা কিংবা টানানোর বিষয়টি কতটুকু আইনসম্মত সে বিষয়ে জানতে বিজিবি জয়পুরহাট ২০ ব্যাটেলিয়ন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ মো. আনিসুল হকের সঙ্গে কথা হয় ঢাকা ট্রিবিউনের। তবে এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

তবে বিজিবি'র এমন কর্মকাণ্ডকে অসাংবিধানিক এবং বেআইনি বলে আখ্যায়িত করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা।

এ বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলনে, তারা কোনোভাবেই এমনটা করতে পারে না। এটি পুরোপুরি অবৈধ এবং অন্যায়। আমি চোর হলে আমার বাবা-মা তো আর চোর না। অতি উৎসাহী হয়ে তারা এ কাজটি করছে। সংবিধানের স্পিরিটটা আগে বুঝতে হবে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে কাউকে শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার কারও নেই। তাছাড়া সংবিধান অনুযায়ী আদালতও কাউকে অবমাননাকর শাস্তি দিতে পারে না।

মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, এককথায় বললে তারা এটা পারে না। আমাদের সংবিধানে দিক নির্দেশনা আছে যে, রাষ্ট্র কিভাবে নাগরিকদের সঙ্গে আচরণ করবে। 

সংবিধানে স্পষ্টতই বলা আছে, কোনো নাগরিক কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাকে বিচারের আওতায় এনে সেই অপরাধ প্রমাণ সাপেক্ষে তাকে শাস্তি দেওয়া। একমাত্র দোষী প্রমাণিত হলেই নির্দিষ্ট আদালত নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তি দিতে পারে। এর বাইরে কেউ অন্য কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে না, সে যেই হোক না কেন। কিন্তু এক্ষেত্রে, এরা অপরাধী হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। আমরা তাদের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে কথা বলছি না। আমরা যে কথাটা ষ্পষ্ট করতে চাই, বিজিবি যে কাজটা করছে তা সম্পূর্ন অসাংবিধানিক এবং আইনবহির্ভূত। সংবিধানের ৩১ থেকে ৩৫ ধারায় এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আছে। 

তিনি জানান, সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার নিয়ে বলা হয়েছে। এই ভাগের ৩১ থেকে ৩৫ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার, জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষা, গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ, জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ এবং বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ বিষয়ে বলা হয়েছে।