• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪১ দুপুর

নারায়ণগঞ্জে বসতবাড়ি থেকে ডিমসহ ৪৮টি গোখরা উদ্ধার!

  • প্রকাশিত ০৮:৪৭ রাত সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৯
নারায়ণগঞ্জ
উদ্ধার করা মা সাপসহ সাপুড়ে মোস্তফা। ঢাকা ট্রিবিউন

দুই দিন আগে বাড়ির পোষা বিড়াল লেবু গাছের নিচে মরে পরে থাকতে দেখে গৃহকর্তীর সন্দেহ হয়। পরের দিন কাজের মেয়ে উঠান ঝাড়ু দিতে গেলে সাপের ৩টি বাচ্চা তাকে তাড়া করে

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের একটি বসতবাড়ির লেবু গাছের নিচ থেকে মা সাপসহ ৪৮টি গোখরা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বারদী ইউনিয়নের আলগীরচর গ্রামের ব্যবসায়ী সাদেকুর রহমান বাড়ি থেকে সাপগুলো উদ্ধার করা হয়।

ব্যবসায়ী সাদেকুর রহমান জানান, দুই দিন আগে বাড়ির পোষা বিড়াল লেবু গাছের নিচে মরে পরে থাকতে দেখে গৃহকর্তীর সন্দেহ হয়। পরের দিন কাজের মেয়ে উঠান ঝাড়ু দিতে গেলে সাপের ৩টি বাচ্চা তাকে তাড়া করে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে তিনি রূপগঞ্জের তারাব এলাকা থেকে মোস্তফা নামে এক সাপুড়েকে ডেকে আনেন। সাপুড়ে বাড়ির লেবু গাছের পাশে থাকা ইটের স্তুপের নিচ থেকে ৫/৬ হাত লম্বা একটি মা সাপ (খইয়া পানস), ৪৭টি বাচ্চা ও বেশ কয়েকটি ডিম উদ্ধার করা হয়। পরে সাপুড়ে মোস্তফা সাপগুলো তার জিম্মায় নিয়ে যান।

তার বাড়ি থেকে সাপ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় সাপের আতঙ্কে ছড়িয়েছে বলেও জানান সাদেকুর রহমান।

উদ্ধারকৃত সাপের বাচ্চা ও ডিম। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

এদিকে সাদেকুর রহমানের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা সাপ ও বাচ্চার ছবি ঢাকা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে পাঠানো হয় বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলাকে। ছবি দেখে তিনি সাপটিকে খইয়া গোখরা (Binocellate Cobra) বলে চিহ্নিত করেন।


আরো পড়ুন - বসতঘর থেকে ধরা হলো মা গোখরা, মারা হলো ১৪ বাচ্চা


জোহরা মিলা বলেন, “গ্রামাঞ্চলে এ সাপটি খইয়া গোখরা নামে পরিচিত। এটি দেশের সর্বত্রই দেখা যায়। সাধারণত বসতবাড়ির আশপাশে, ছোট ঝোপঝাড়, ইঁদুরের গর্ত বা পুরাতন ভবন বা ইটের ফাকফোঁকরে সাপটি বাস করে। কিছুটা ধূসর বাদামী বর্ণের এই সাপটি লম্বায় প্রায় দেড় থেকে দুই মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। গোখরা ব্যাঙ, ইঁদুর, গিরগিটি, ছোট পাখি ইত্যাদি সাপটির প্রধান খাদ্য। দ্রুত চলাফেরা ও সাঁতার কাটায় খুবই দক্ষ এই সাপ।”

তিনি আরো বলেন, “সাধারণত বর্ষাকালে (মার্চ থেকে জুলাই) একটি মা সাপ ১২ থেকে ৩০টি ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা হতে প্রায় ৬০ দিন সময় লাগে। এই সাপের বিষ নিউরোটক্সিন প্রকৃতির, যা দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে ও স্নায়ুতন্ত্রকে অকেজো করে দেয়। তাই গোখরা সাপে কাটা রোগীকে ওঝা নয়, দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া উচিত।”


আরো পড়ুন - চাঁদপুরে ধরা পড়েছে ভয়ংকর বিষধর ‘রাসেল ভাইপার’ সাপ