• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৫৬ রাত

সুন্দরবনের বাঘিনীর মৃত্যু নিয়ে যা জানা গেল

  • প্রকাশিত ০৯:২১ রাত সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯
বাঘ
গত ২০ আগস্ট পূর্ব সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্যের আওতাধীন ছাপড়াখালী এলাকা থেকে বন বিভাগের সদস্যরা মৃত অবস্থায় বাঘটিকে উদ্ধার করেন। ঢাকা ট্রিবিউন

এক মাসেরও বেশি সময় পর বুধবার বাঘের মৃত্যু সংক্রান্ত ফরেনসিক প্রতিবেদন বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে সিআইডি

সুন্দরবন থেকে উদ্ধারকৃত মৃত বাঘিনীটি শিকারির দেওয়া বিষটোপে মারা যায়নি, বরং সেটির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল বলে রিপোর্ট দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখা (সিআইডি)।

এক মাসেরও বেশি সময় পর বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাঘের মৃত্যু সংক্রান্ত ফরেনসিক প্রতিবেদন বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে সিআইডি। ফরেনসিক প্রতিবেদনে বাঘিনীটির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত ২০ আগস্ট বেলা ১২টার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্যের আওতাধীন ছাপড়াখালী এলাকা থেকে সাত ফুট দৈর্ঘ্য ও তিন ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট একটি স্ত্রী বাঘের মরদেহ উদ্ধার করেছিল বন বিভাগের টহল দলের সদস্যরা। বনকর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, মৃত বাঘিনীটির বয়স ১০ বছরের বেশি। 


আরো পড়ুন - সুন্দরবন থেকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মৃতদেহ উদ্ধার


পরে বাঘিনীটির মৃত্যুর কারণ জানতে আইনানুযায়ী মরদেহটির ময়নাতদন্ত যৌথভাবে সম্পন্ন করেন বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সাতক্ষীরার শরণখোলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলাউদ্দিন মাসুদ। একইসঙ্গে বাঘটির মৃত্যুর কারণ অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বন বিভাগের ফরেনসিক ল্যাবেও পাঠানো হয়। এ ছাড়া শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জয়নাল আবেদীনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।

পরবর্তীতে গত ২৭ আগস্ট বন বিভাগের পক্ষ থেকে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জয়নাল আবেদীনের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত বাঘিনীটি শিকারির দেওয়া বিষটোপ অথবা রোগে ভুগে মারা যায়নি বরং সেটির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সিআইডির দেওয়া প্রতিবেদনেও একই তথ্য পাওয়া গেল।

সিআইডির প্রতিবেদনের বিষয়ে বন বিভাগের ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিটের অধীন দেশের একমাত্র বন্যপ্রাণী ফরেনসিক ল্যাবের সিনিয়র টেকনিশয়ান কনক রায় বলেন, “বাঘিনীটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পাঁচ ধরনের পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এটির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল।”


আরো পড়ুন - বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে বাংলাদেশ কি ব্যর্থ হতে যাচ্ছে?


তবে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ফরেনসিক ল্যাব থাকতেও সেটি বাদ দিয়ে মৃত বাঘটির নমুনা কেন সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হলো- এ প্রশ্নের জবাবে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক এ. এস. এম. জহির উদ্দিন আকন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমাদের ল্যাবটিতে এ ধরনের পরীক্ষার যন্ত্রপাতি নেই। তবে সিআইডির প্রতিবেদন নিয়ে সন্দেহ পোষণ করার সুযোগ নেই।”

এর আগে বাঘটির মৃত্যু সম্পর্কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বাঘ বিশেষজ্ঞ ড. মনিরুল এইচ খান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, “একটি বাঘ সাধারণত ৩ বছরেই পূর্ণ বয়স্ক হয় এবং কোনো কারণে যদি মারা না যায় তবে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচতে পারে। ১০ বছর বয়সী কোনো বাঘের স্বাভাবিক মৃত্যু হলে তা বার্ধক্যজনিত কারণে হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে।”


আরো পড়ুন - মুন্সীগঞ্জে ‘বাঘের’ ঘোরাফেরা, আসল রহস্য কী?