• সোমবার, অক্টোবর ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:১৮ দুপুর

গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়: ভিসির ভাতিজা বলে কথা!

  • প্রকাশিত ১২:২০ দুপুর সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯
গোপালগঞ্জ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি খন্দকার মাহমুদ পারভেজ। ছবি: সংগৃহীত

খন্দকার মাহমুদ পারভেজ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণি পেয়েও প্রভাষক হয়েছেন। আবার প্রভাষক হিসেবে দুই বছরের অভিজ্ঞতা ছাড়াই সহকারী অধ্যাপক হয়েছেন

ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি খন্দকার মাহমুদ পারভেজের বিরুদ্ধে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের আপন ভাইয়ের ছেলে (ভাতিজা)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, খন্দকার মাহমুদ পারভেজ ২০১৬ সালের ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকশন অফিসার পদে আবেদন করেন। ওই সময় তার আবেদনপত্রে দেখা যায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে শতকরা ৫০ শতাংশ নম্বর নিয়ে এবং স্নাতকোত্তর পরীক্ষায়ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে শতকরা ৪৮ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাশ করেন। পরবর্তী সময়ে এই ফলাফল নিয়েই তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ পান।

সেকশন অফিসার পদে খন্দকার মাহমুদ পারভেজের আবেদনপত্র ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

কিন্তু সেকশন অফিসার পদে ১ বছর চাকরির পরই ২০১৭ সালের জুন মাসে খন্দকার মাহমুদ পারভেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তজার্তিক সম্পর্ক বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। এর ঠিক এক বছর পর ২০১৮ সালের ২২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি হলে, ভিসির এই ভাতিজাকে ২৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টির রিজেন্ট বোর্ডের ২৫তম সভায় সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় দেখা যায়, প্রভাষক পদে চাকরি পেতে হলে একজন প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি অথবা ৪ স্কেলে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। অপরদিকে সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ পেতে হলে প্রার্থীর অবশ্যই এমফিল ডিগ্রীসহ দুই বছর প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এ ক্ষেত্রে খন্দকার মাহমুদ পারভেজ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণি পেয়েও প্রভাষক হয়েছেন। আবার প্রভাষক হিসেবে দুই বছরের অভিজ্ঞতা ছাড়াই সহকারী অধ্যাপক হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

অভিযোগের বিষয়ে খন্দকার মাহমুদ পারভেজ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে গবেষণাকর্মে অভিজ্ঞ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। রবীন্দ্র গবেষণা জার্নালে আমার একাধিক গবেষণাকর্ম প্রকাশিত হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয় আমার এই অভিজ্ঞতা দেখে আমাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ ও পদোন্নতি দিয়েছে।”

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, নওগাঁ থেকে প্রকাশিত রবীন্দ্র গবেষণা জার্নালের আন্তজার্তিক মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পর্যাপ্ত টাকা দিলেই যেকোনো লেখা এই জার্নাল থেকে বের করা সম্ভব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগবিধি ভেঙে ভাতিজাকে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করবো না।”


আরো পড়ুন - গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগ