• সোমবার, অক্টোবর ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:১৮ দুপুর

গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়: ইউজিসির তদন্ত সম্পন্ন

  • প্রকাশিত ০৫:৪৮ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯
গোপালগঞ্জ
উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ঢাকা ট্রিবিউন

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত কমিটির সদস্যরা হামলায় আহত শিক্ষার্থী, সাধারণ ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত দল তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তদন্তের শেষ দিনে দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত তদন্ত দল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের সাথে কথা বলেন। এ সময় ভিসির বক্তব্য তদন্ত কমিটির সদস্যরা লিখে নেন। এছাড়া ভিসিও আলাদাভাবে লিখিত বক্তব্য দেন ইউজিসির তদন্ত টিমের কাছে। 

এদিকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা হামলায় আহত শিক্ষার্থী, সাধারণ ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চান।   

পরে তদন্ত কমিটির প্রধান ড. মো. আলমগীর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। 

তিনি বলেন, “জাতির পিতার নামের বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা কিভাবে নিরশন করা যায়, এর উৎপত্তি কোথায়, বর্তমান পরিস্থিতি কি, বর্তমান পরিস্থিতিতে কি হতে পারে, সেটা জানার জন্য আমরা ৫ সদস্যের একটি দল এসে গতকালই কাজ শুরু করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গেই আমরা কথা বলেছি। ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ সর্বশেষে ভিসির সঙ্গে কথা বলেছি। এছাড়া অন্যরা যারা আমাদের সাথে কথা বলতে চেয়েছে, তাদেরও আমরা সময় দিয়েছি। বিষয়টি আমরা জানলাম। এখন বিষয়টি আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়েছে। ইউজিসির চেয়ারম্যান মহোদয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন, আমরা চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানাবো। তারপর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। আমরা আশা করি এমন একটি সিদ্ধান্ত হবে, যাতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি সুন্দর অবস্থা বিরাজ করবে। এ বিশ্বদ্যিালয়টি আবার অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণার দ্বারে ফিরে আসতে পারে।”


আরো পড়ুন - গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও এক সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগ


কমিটির অন্যান্য সদস্য ইউজিসি’র সদস্য ড. সাজ্জাদ হোসেন, ড. দিল আফরোজ বেগম, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক কামাল হোসেন, কমিটির সদস্য সচিব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উপপরিচালক মৌরি আজাদ শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের সাথে পৃথক পৃথক কথা বলেন। তাদের বক্তব্য নিজেরা (তদন্ত দল) লিখে নেন, পাশাপাশি ছাত্র শিক্ষকদের লিখিত বক্তব্য তার গ্রহণ করেন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানা মুক্তা বলেন, “বুধবার ইউজিসির তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মৌরি আজাদ ঢাকা থেকে রওনা দিয়েই আমাকে ফোন দেয়। তিনি আমার ও ছাত্রী ফাতেমা-তুজ-জিনিয়ার অভিযোগ শুনবেন বলে জানান। তিনি আমিসহ আরো শিক্ষক, শিক্ষার্থীর বক্তব্য শোনেন। আমি তাদের সামনে অভিযোগ তুলে ধরেছি। তারা তাদের মতো করে লিখে নিয়েছেন। আমিও লিখিত বক্তব্য তাদের কাছে জমা দিয়েছি।”

হামলায় আহত রসায়ন বিভাগ তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল আলম বলেন, “ইউজিসির স্যাররা আমার বক্তব্য শুনেছেন। আমার সাথে হামলার দিন কি ঘটেছিলো এগুলো জিজ্ঞাসা করেছেন। আমার মেডিকেল রিপোর্ট, নাম ও মোবাইল নম্বর নিয়েছেন।”

বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগ তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মানস তালুকদার বলেন, “২১ সেপ্টেম্বরের হামলায় আমার হাত ভেঙ্গে যায়। এছাড়া বাঁশের লাঠি দিয়ে আমাকেসহ ২০ জনকে পেটানো হয়। হামলাকারীরা সবাই ভিসির গুন্ডাবাহিনী ছিল। আমরা যাদেরকে চিনতে পেরেছি তাদের নাম ইউজিসির তদন্ত কমিটির কাছে বলেছি। তদন্ত কমিটি সেগুলো আন্তরিকতার সাথে শুনেছেন। আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।”

হামলায় আহত কৃষি বিভাগ তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, “হামলার বিষয়ে জড়িত যাদেরকে আমি চিনতে পেরেছি তাদের বিষয়ে শুনতে চেয়েছিলেন ইউজিসির তদন্ত কমিটি। আমি হামলার সময়ের যা কিছু আমার চোখের সামনে ঘটেছিলো, কিভাবে মেয়েদের গায়ে হাত তোলা হয়েছিল সবকিছুই বলেছি। প্রাণ বাঁচাতে আনেক ছাত্র-ছাত্রী বিলে ঝাঁপ দিয়েছিল বলেও তদন্ত কমিটির কাছে বলেছি। তারা আমাদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নিয়েছে।”