• রবিবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪৭ রাত

অবসরের পর নৌকায় বাস করতে চান ড. জাফর ইকবাল

  • প্রকাশিত ০২:৪৪ দুপুর সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯
জাফর ইকবাল
সাহিত্যিক ও লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। ছবি: ইউএনবি

‘জাফর ইকবালের পরিকল্পনা শিক্ষকতা পেশায় অবসরের পর বড় একটি নৌকা বানাবেন, আর সেখানেই বাস করবেন’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে পুরোপুরি অবসরে যাওয়ার পর নৌকায় বসবাস করার অভিব্যক্তি পোষণ করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল দম্পতি।

জাফর ইকবালের সহধর্মিনী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. ইয়াসমিন হক বলেন, “জাফর ইকবালের পরিকল্পনা শিক্ষকতা পেশায় অবসরের পর বড় একটি নৌকা বানাবেন, আর সেখানেই বাস করবেন। তবে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আয়োজন করা যেকোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবো আমরা।”

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও ড. ইয়াসমিন হক এর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের ২৫ (পঁচিশ) বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সাস্ট সায়েন্স অ্যারেনা’ কর্তৃক আয়োজিত স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠানে ড. ইয়াসমিন হক এ কথা বলেন। 

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন,“আমি এই প্রতিষ্ঠান থেকে অবসর গ্রহণের পর বাংলাদেশের আর অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করবো না বলে ঠিক করে রেখেছি, কারণ আমি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।”

তিনি বলেন, “আমার অবসর গ্রহণের কথা শুনে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে তাদের প্রতিষ্ঠানে যোগদানের জন্য ডাকছে। কিন্তু আমি সেখানে যাবো না। কারণ যে শক্তিটা আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) পরিচয়ে পাই, অন্য কোথাও যোগদান করলে আমার এই শক্তি থাকবে না।”

জাফর ইকবাল বলেন, “আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে খুবই সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছি, আর যখন চলে যাচ্ছি তখন সুন্দর স্মৃতি নিয়ে যাচ্ছি। পৃথিবীর খুব কম মানুষ আছে যারা এমন সুন্দর স্মৃতি নিয়ে একটা জায়গা থেকে যায়। আমি যদি বিদেশে থাকতাম তাহলে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে মরে যেতাম। আমি কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে দেশে ফিরে আসি নাই। এদেশের বৃষ্টি অনেক সুন্দর, ঝমঝম করে বৃষ্টির শব্দ, বৃষ্টির সাথে ব্যাঙ ডাকার শব্দ পৃথিবীর আর অন্য কোথাও পাওয়া অসম্ভব। এইসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে।”

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, “আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি আমাদের চোখে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি স্মৃতি আছে। আমাকে কেউ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু বললে আমি বলবো অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বড় স্মৃতি সেক্রিফাইস, অনেক বড় বীরত্ব, অনেক বড় অর্জন। পুরো মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে একটি স্বজন হারানো বেদনা রয়েছে যা এখনকার জনসাধারণ সহজে বুঝবে না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।”

ড. ইয়াসমিন হক ও ড. জাফর ইকবাল। ছবি: ইউএনবি

উল্লেখ্য, অধ্যাপক জাফর ইকবাল পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ১৯৭৫ ও ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে ১৯৮২ সালে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে গবেষণা শুরু করেন।

১৯৮৮-১৯৯৪ পর্যন্ত তিনি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান বেল কমিউনিকেশনস রিসার্চ (বেলকোর)-এ গবেষণা করেন। ওই বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফিরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন তিনি।

শাবিপ্রবিতে তার দীর্ঘ এ কর্মজীবনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পাশাপাশি একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, শিক্ষক সমিতির সভাপতির পদে আসীন ছিলেন। তিনি একাধারে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং ইলেক্ট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ২০১৮ সালে অবসরত্তোর ছুটিতে যান। অপরদিকে ১৯৯৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে যোগদানের পর শিক্ষকতার পাশাপাশি আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ২০১৭ সালে অবসরত্তোর ছুটিতে যান অধ্যাপক ইয়াসমীন হক।

এই শিক্ষক দম্পতির অবসর গ্রহণ নিয়ে অধ্যাপক জাফর ইকবাল এবং ড. ইয়াসমিন হকের সরাসরি ছাত্র এবং সহকর্মী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী বলেন, “আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি কারণ আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু হয়েছে জাফর স্যারের ক্লাস দিয়ে আর ভার্সিটিতে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পর স্যারের সাথে কোথাও গেলে স্যার যখন নিজের ছাত্র বলে পরিচয় করিয়ে দিতেন তখন অনেক বেশি ভাল লাগতো আর মনে হতো জীবনে কিছু করতে না পারলেও আজীবন স্যারের ছাত্র বলে কাটিয়ে দিতে পারবো।”

তিনি আরও বলেন, “আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে ভাল মানুষ ইয়াসমিন ম্যাডাম। ম্যাডাম সবসময় আমাদের মাতৃস্নেহে আগলে রাখতেন। আমরা স্যার-ম্যাডামকে ২৫ বছর আমাদের ক্যাম্পাসে সুখে দুঃখে সব সময় সাথে পেয়েছি এটা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনেক বড় ব্যাপার কিন্তু ২৫ সংখ্যাটা আরো বড় হতে পারতো।”