• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৭ রাত

এক বাড়িতেই ১৫ কেউটে সাপ!

  • প্রকাশিত ০৫:০৪ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯
সাপ
সাপুরের হাতে উদ্ধারকৃত কেউটে সাপ। ঢাকা ট্রিবিউন

শুক্রবার হামিদের ছেলে রান্না ঘরে কাঠ আনতে গেলে একটি কেউটের সাপের বাচ্চা তাকে কামড়াতে যায়। ছেলের চিৎকারে তিনি গিয়ে সাপটিকে মেরে দেখেন মৃত সাপটি কেউটের বাচ্চা

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার একটি বাড়ি থেকে ১৫টি কেউটে সাপ ও ৩৫টি সাপের ডিম উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কোড়া এনামপুর গ্রামের প্রয়াত মমিজউদ্দীন মোড়লের ছেলে আব্দুল হামিদের বাড়ি থেকে সাপ ও ডিমগুলো উদ্ধার করেন দেবহাটার টাউনশ্রীপুর গ্রামের সাপুড়ে আকবর আলী।

আব্দুল হামিদ জানান, ২ মাস আগে তার স্ত্রী তাদের বাড়ির মাটির রান্না ঘরে একটি সাপ দেখে বিষয়টি তাকে জানান। এ ঘটনায় আব্দুল হামিদ ভেবেছিলেন এটি হয়তো ঢোড়া সাপ, তাই গুরুত্ব দেননি। কিন্তু গত 

আব্দুল হামিদ বলেন, এ ঘটনায় সাপুড়ে আকবর আলীকে খবর দেওয়া হয়। তিনি (সাপুড়ে) শনিবার সকালে এসে রান্ন ঘরের মাটি খুঁড়ে প্রায় সাড়ে চার হাত লম্বা একটি কেউটে ও এক থেকে দেড় হাত ১২টি কেউটের বাচ্চা উদ্ধার করেন। এ সময় ৩৫টি সাপের ডিমও উদ্ধার করা হয়। পরে সাপুড়ে চলে যাবার পর আরো একটি কেউটের বাচ্চা ঘরের মেঝে থেকে বেরিয়ে আসে। সেই সাপটি আমি নিজে মেরে ফেলি।

এদিকে আব্দুল হামিদের বাড়ি থেকে কেউটে সাপ উদ্ধারের পর এলাকার আতঙ্ক ছড়িয়েছে।


আরো পড়ুন - চাঁদপুরে ধরা পড়েছে ভয়ংকর বিষধর ‘রাসেল ভাইপার’ সাপ


উদ্ধারকৃত কেউটে সাপের খবরটি বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলাকে জানালে ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “উদ্ধারকৃত সাপগুলো মনোসিলেড কোবরা যা বাংলায় ‘গোখরা সাপ’ হিসেবে পরিচিত। কোনো কোনো এলাকায় এ সাপটিকে কেউটে নামেও ডাকা হয়। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম বিষাক্ত সাপ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ সাপটি ফসলের খেত, ইদুরের গর্ত, জলাভূমি, বন ও মানুষের বসতিতে বাস করে। সাধারণত জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে স্ত্রী সাপ ৮ থেকে ১৮টি ডিম পাড়ে এবং ডিম না ফুটে বাচ্চা বের হওয়া পর্যন্ত মা সাপ ডিমের সাথেই থাকে। নিশাচর এই সাপটি মাছ, ইদুর, ব্যাঙ, টিকটিকি, ছোট সাপ ইত্যাদি খেয়ে থাকে। সাপটি সারাদেশেই কমবেশি দেখা যায়।”

সাপসহ যে কোনো বন্যপ্রাণী হত্যা না করার আহ্বান জানিয়ে জোহরা মিলা বলেন, “আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) ন্যূনতম বিপদগ্রস্থের তালিকাভুক্ত করেছে। সাপটি বিরক্ত হলে সাধারণত পালাতে পছন্দ করে। তবে আত্মরক্ষার্থে কামড়ও দেয়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ২০১২ অনুযায়ী এটি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী।”


আরো পড়ুন - ভারতে পাচার হচ্ছিলো তক্ষকটি