• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৫১ সন্ধ্যা

মন্ত্রণালয়: অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পথে বাধা এমপিরা

  • প্রকাশিত ০৭:৪৯ রাত সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯
জাতীয় সংসদ
ফাইল ছবি। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন।

সংসদ সদস্যদের কারণে অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানায় মন্ত্রণালয়

অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পথে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা সবচেয়ে বড় বাধা বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। সংসদ সদস্যদের কারণে অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানায় মন্ত্রণালয়। তবে কমিটি বলেছে, সংসদ সদস্য বা অন্য কোনও রাজনৈতিক নেতার চাপ আমলে নিলে চলবে না। অবশ্যই অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়,  এ প্রসঙ্গে আলোচনার একপর্যায়ে ঢাকার আশপাশে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী এলাকায় অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের ক্ষেত্রে স্থানীয় এমপিদের বিরোধিতা ও অসহযোগিতার কথা জানান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, “মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের একটি অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা বলেছি, সমস্যা কী আছে, সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। আপনাদের কাজ অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা। সেটি করতে হবে। এমপির পক্ষ থেকেই হোক বা অন্য কোনও রাজনৈতিক চাপ হোক, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।”

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, সরকারি মালিকানাধীন ছয়টি গ্যাস কোম্পানির মধ্যে চারটি কোম্পানি এই বছরের আগস্ট পর্যন্ত মোট ৯৭ হাজার ৯৩৫টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এ সময় ৩০৭ কিলোমিটার গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়। গ্যাস লাইনের পুরোটাই ছিল আবাসিক খাতের। বিচ্ছিন্ন করা সংযোগেরও প্রায় সিংহভাগ আবাসিক খাতের। আবাসিকের ৯৭ হাজার ৮৩টি চুলা এসময় বিচ্ছিন্ন করা হয়। বাকিগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক খাতের ২০২টি, শিল্প খাতের ৮৭টি, সিএনজি ২২টি এবং ক্যাপটিভ সংযোগ ৪১টি।

এদিকে, বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ চিহ্নিত করতে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে গ্যাসের সিস্টেম লসের পরিমাণ সহনীয় মাত্রায় কমিয়ে আনার পাশাপাশি সিস্টেম লসের স্ট্যান্ডার্ন্ড নির্ধারণ করে দিতেও মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, “মন্ত্রণালয় থেকে জানান হয়েছে, গ্যাস সরবরাহে সিস্টেম লস পাঁচ ভাগের একটু বেশি। কিন্তু এই সিস্টেম লসের পুরোটাই আবাসিক সংযোগসহ বেসরকারি ৪০ ভাগ গ্রাহকদের। সার কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সরকারি প্রতিষ্ঠান যে ৬০ শতাংশ গ্যাসের গ্রাহক, সেখানে কোনও সিস্টেম লস নেই। এসব বিষয় মাথায় রেখে সিস্টেম লসের প্রকৃত হার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়।”

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে ২০২০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৩ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ এবং ৯৬ ভাগ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে পেট্রোবাংলার গ্যাস বিপণন কোম্পানিগুলোর বিদ্যমান সিস্টেম লস কমাতে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা হয়। এ সময় সিস্টেম লস সামগ্রিকভাবে না দেখিয়ে আলাদাভাবে দেখানোর জন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

বৈঠকেঅগভীর ও গভীর সমুদ্রসহ দেশে তেল, গ্যাস, কয়লা ও অন্যান্য খনিজসম্পদের অনুসন্ধান কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৫ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের চ্যালেঞ্জ উত্তরণে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতিনিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় কমিটি দেশের সব জায়গায় সমপরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অফশোর গ্যাস আহরণে আরও বেশি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়কে বলে। বৈঠকে সারাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।

শহীদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, আলী আজগার, নূরুল ইসলাম তালুকদার, আছলাম হোসেন সওদাগর, খালেদা খানম ও বেগম নার্গিস রহমান।