• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০০ রাত

ভাঙনে বিলীন বিদ্যালয়কে ‘ভাসমান বিদ্যালয়’ করার দাবি

  • প্রকাশিত ০৯:১৮ রাত সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯
চাঁদপুর
খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টানিয়ে চলছে পাঠদান। ছবি: ইউএনবি

 প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এ নিয়ে বিদ্যালয়টি ৯ বার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে

চাঁদপুর সদরের ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়টি আবারো নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। গত এক মাসের ভয়াবহ নদী ভাঙনে স্কুলটি আবারো নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এ নিয়ে বিদ্যালয়টি ৯ বার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

১৯৮৮ সালে রাজরাজেশ্বর এলাকায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এলাকার দানশীল ব্যক্তি আলহাজ ওমর আলী অবহেলিত চরের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন।

বিদ্যালয়ে প্রায় ৫শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী, ১২ জন শিক্ষক ও ৫জন কর্মচারী রয়েছে। নদীভাঙন সত্বেও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের পড়ালেখা অব্যাহত রেখেছে।

বর্তমানে পার্শ্ববর্তী গ্রাম লক্ষীর চরে ১৪৬ শতাংশ জমি ক্রয়করে সেখানে কোনোরকম স্থাপনা গড়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে। আর কয়দিন পরেই জেএসসি, বাৎসরকি সমাপনি ও সামনে এসএসসি পরীক্ষা। তাই নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যঘাত না ঘটে, তার জন্যে পরিশ্রম করে যাচ্ছে শিক্ষকরা। ছাত্র-ছাত্রীরাও বহু দূর-দূরান্ত থেকে এসে ক্লাস করছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা জানান, এই ইউনিয়নে ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে একটি মাত্র উচ্চ বিদ্যালয়। বারবার নদী ভাঙ্গনে পড়ালেখার মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। বর্তমানে কোনো ভালো ক্লাসরুম নেই। তাঁবু টানিয়ে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাবার পানি, বিদ্যুৎ, এমনকি টয়লেটও নেই। ছাত্র-ছাত্রীরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ক্লাস করছে|

শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্থানীয় মানুষ স্কুলটিকে ভাসমান স্কুলে পরিনত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য পারভেজ গাজী রণি বলেন, ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৯বার ভাঙনের শিকার হয়েছে স্কুলটি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সফিউল্লাহ সরকার জানান, এই ইউনিয়নের ৮টি প্রাইমারী স্কুলের মধ্যে একটিমাত্র উচ্চ বিদ্যালয় এটি। ফলে ৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা উক্তীর্ণ হয়ে এখানে ভর্তি হয়। প্রতিবারই নিজেদের টাকায় জমি কিনে স্কুল সরিয়ে নিচ্ছি। বর্তমানে ভাঙনস্থল থেকে ২ কিলোমিটার দূরে লক্ষীরচরে যে জমি কেনা হয়েছে সেখানে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় করে মাটি ভরাটসহ অন্যান্য কাজ করেছি। তাই সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন আমাদের একটি ভাসমান স্কুলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক ।

একই মতামত ব্যক্ত করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মুনির ফারুক, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানহয়রত আলী ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। জেলা শহর থেকে মেঘনা নদীর অপর প্রান্তে প্রায় ৯ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তরে অবস্থিত। সম্প্রতি জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শওকত ওসমান স্কুলটি পরিদর্শন করেছেন ।