• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৭ রাত

কুষ্টিয়ায় বন্যা পরিস্থিতি: তলিয়ে গেছে ৬ কোটি টাকার ফসল

  • প্রকাশিত ০৩:৩৭ বিকেল অক্টোবর ১, ২০১৯
কুষ্টিয়া হার্ডিঞ্জ সেতু
কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে পানি ঢাকা ট্রিবিউন

পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন  দৌলতপুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ

কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় হার্ডিঞ্জ সেতু পয়েন্টে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল বিপৎসীমার ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটারেরও বেশি উচ্চতায়।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী পীযূষ কৃষ্ণ কুণ্ডু ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

ফলে জেলার দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চলে ডুবে গেছে প্রায় ৬ কোটি টাকার ফসল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।  

স্থানীয় ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এ. কে. এম ফজলুল হক বলেন, আমাদের ইউনিয়নের আলী নগর, বাহিচর, ফিলিপনগরে প্রায় দুই হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে পুরো ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে যাবে। 

তিনি আরও জানান, পানিবন্দি এলাকার মানুষ এখনও কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি।

ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন জানান, ফিলিপনগর বড়মসজিদ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা দিয়ে বাঁধ উপচে বন্যার পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বালির বস্তা ফেলে স্থানীয়রা তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। 

স্থানীয় মরিচা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শোহ আলমগীর বলেন, ভুরকা এলাকায় স্লুইস গেট দিয়ে পদ্মার পানি ঢুকে বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের ফসল। এভাবে আর দুইদিন পানি বাড়তে থাকলে পুরো ইউনিয়ন পানিতে ডুবে যাবে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

এদিকে, শনিবার দিনভর কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশা, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আসলাম হোসেন ও দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন পানিবন্দি রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়ন পরিদর্শন করেছেন।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শারমিন আক্তার বলেন, এ পর্যন্ত উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের ৪৭টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় এসব এলাকা প্লাবিত হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার চরাঞ্চলগুলোতে প্রায় ৬ কোটি টাকার ফসল তলিয়ে গেছে।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পীযূষ কৃষ্ণ কুণ্ডু জানান, পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ সেতু পয়েন্টে মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত পানির বিপৎসীমার উচ্চতা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটারের ওপরে পরিমাপ করা হয়েছে। এ ছাড়াও গড়াই নদী পয়েন্টে পানির বিপৎসীমার উচ্চতা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। এর আগে ২০০৩ সালে সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পানির উচ্চতা বেড়েছিল। 

তিনি আরও জানান, ভারতে বৃষ্টিপাতের কারণে পদ্মা এবং গড়াই নদীর পানি বেড়েছে। আরও দুই থেকে তিনদিন পানি বাড়তে পারে। এরপর কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। শহর রক্ষা বাঁধসহ বিভিন্ন বাঁধ ও পয়েন্টে পাউবোর কর্মকর্তারা নজর রাখছেন।