• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:২৫ বিকেল

বগুড়ায় পাঁচটি তক্ষক উদ্ধার, যুবলীগ সভাপতির ছেলেসহ গ্রেফতার ৩

  • প্রকাশিত ০৭:৫৪ রাত অক্টোবর ১, ২০১৯
তক্ষক
র‌্যাবের অভিযানে উদ্ধারকৃত তক্ষক। ঢাকা ট্রিবিউন

শেরপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তারেকের ছেলে নিয়ন ও অন্যরা দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী তক্ষক শিকার ও হেফাজতে রেখে বগুড়া জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষকে ভুল বুঝিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন

বগুড়ার শেরপুরে তক্ষক শিকার ও হেফাজতে রাখার অভিযোগে উপজেলা যুবলীগ সভাপতির ছেলেসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শেরপুরের বারদুয়ারীপাড়ার একটি বাড়ি থেকে পাঁচটি তক্ষকসহ তিন জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১২ ক্যাম্পের সদস্যরা। পরে মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বারদুয়ারীপাড়ার বাসিন্দা ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তারিকুল ইসলাম তারেকের ছেলে শামসুজ্জোহা বিন তারেক নিয়ন (২০)। গ্রেফতারকৃত নিয়ন রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ছাত্র। গ্রেফতারকৃত অন্য দুইজন হলেন একই উপজেলার চকধলী গ্রামের মৃত দলিল উদ্দিন মন্ডলের ছেলে মো. নূরুন্নবী (৫০) ও মির্জাপুর গ্রামের শুকুর আলী শেখের ছেলে মাকেজ আলী শেখ (৩২)।


আরো পড়ুন - এক বাড়িতেই ১৫ কেউটে সাপ!


র‌্যাব-১২ স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার মেজর এসএম মোর্শেদ হাসান জানান, শেরপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তারেকের ছেলে নিয়ন ও অন্যরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী তক্ষক শিকার ও হেফাজতে রেখে বগুড়া জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষকে ভুল বুঝিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গোপনসূত্রে খবর পেয়ে শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম রাঞ্জুর বারদুয়ারীপাড়ায় পাঁচতলা বাড়ির একটি ঘরে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পাঁচটি তক্ষক উদ্ধার ও অবৈধভাবে শিকার এবং হেফাজতে রাখায় নিয়ন, নূরুন্নবী ও মাকেজকে গ্রেফতার করা হয়।

শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর জানান, আসামিদের আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আদালতের অনুমতিতে তক্ষকগুলো রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, তক্ষক কী কাজে লাগে এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের কোনো মতামত পাওয়া যায়নি। তবে প্রতারক চক্র এ প্রাণীকে মহামূল্যবান ও এর মাধ্যমে জীবনী ও যৌন শক্তি বৃদ্ধির ওষুধ তৈরি হয় বলে প্রতারণা করে থাকে।


আরো পড়ুন - পর্যটকদের অসচেতনতা: হুমকির মুখে টাঙ্গুয়ার হাওর


তক্ষক সম্পর্কে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “তক্ষক (Gecko) গিরগিটি প্রজাতির র্নিবিষ নিরীহ বন্যপ্রাণী। সাধারণত পুরাতন বাড়ির ইটের দেয়াল, ফাঁক-ফোকড় ও বয়স্ক গাছে এরা বাস করে। কীটপতঙ্গ, টিকটিকি, ছোট পাখি ও ছোট সাপের বাচ্চা খায়। আইইউসিএন এর লাল তালিকা অনুযায়ী এটি বিপন্ন বন্যপ্রাণী।”

তিনি আরো বলেন, “তক্ষকের দাম ও তক্ষক দিয়ে তৈরি ওষুধ নিয়ে ব্যাপক গুজব ছড়ানো হয়েছে। আর গুজবে বিশ্বাস করে এক শ্রেণির লোকেরা রাতারাতি ধনী হবার স্বপ্নে তক্ষক শিকারে নেমেছে। মূলত ব্যাপক নিধনই তক্ষক বিলুপ্তির প্রধান কারণ। তক্ষক দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ওষুধের উপকারীতা নিয়ে সেসব শোনা যায়, বৈজ্ঞানিকভাবে তার কোনো ভিত্তি নেই। তারপরও এই গুজবটির কারণেই প্রাণীটি হারিয়ে যেতে বসেছে।”