• মঙ্গলবার, মার্চ ০২, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪৩ দুপুর

অনলাইন ক্যাসিনোর লেনদেন হতো তিন ব্যাংকে

  • প্রকাশিত ০৯:১০ রাত অক্টোবর ১, ২০১৯
ক্যাসিনো
অভিযানে মদ, টাকা, চেকবই, বৈদেশিক মুদ্রা, পাসপোর্ট ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়। ফোকাস বাংলা

‘ব্যাংক তিনটি হলো, বিদেশি ব্যাংক কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন এবং দেশের বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক দি সিটি ব্যাংক ও যমুনা ব্যাংক’

শ্রীলঙ্কান একটি ব্যাংকসহ মোট তিনটি ব্যাংকে বাংলাদেশের অনলাইন ক্যাসিনোর লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব)।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) বিকেলে র‌্যাব-১ অধিনায়ক সারোয়ার বিন কাশেম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এর আগে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বাংলাদেশের অনলাইন ক্যাসিনোর মূলহোতা সেলিম প্রধানের বাড়ি ও অফিসে টানা ১৮ ঘণ্টা অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব।

অভিযান শেষে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ অধিনায়ক বলেন, “অনলাইনে ক্যাসিনোর টাকা একটি গেটওয়েতে জমা হয়। এই গেটওয়ে থেকে তিনটি ব্যাংকে টাকা যায়। ব্যাংক তিনটি হলো, বিদেশি ব্যাংক কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন এবং দেশের বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক দি সিটি ব্যাংক ও যমুনা ব্যাংক।”

সারোয়ার বিন কাশেম আরও বলেন, “অনলাইন গেটওয়ে দিয়ে এই তিন ব্যাংকে টাকা ঢুকতো। লেনদেন করতো সেলিম প্রধানের সহকারী আক্তারুজ্জামান। সেলিম প্রধানের সঙ্গে সমান অংশীদারিত্বে উত্তর কোরিয়ার নাগরিক মিস্টার তু অনলাইন ক্যাসিনোর ব্যবসা করতো। এই অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে পাচার হতো অথবা কোরিয়ান নাগরিক নিজে এসেও টাকা নিতেন। এখানে মানি লন্ডারিং অপরাধ হয়েছে।”


আরো পড়ুন - সেলিম প্রধানের অফিস থেকে নগদ অর্থ, সার্ভার জব্দ


সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সেলিম প্রধানকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে আটকের পর রাত ১০টা থেকে পরবর্তী ১৮ ঘণ্টা ধরে তার গুলশানের বাসা এবং বনানীর অফিসে অভিযান চালায় র‌্যাব-১। মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় অভিযান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সারোয়ার বিন কাশেম। খবর বাংলা ট্রিবিউনের। 

তিনি বলেন, “গতকাল (সোমবার) আমরা একটা অপারেশন শুরু করেছি। আজকে দিনব্যাপী আমরা পূর্ণ নিরীক্ষা করেছি। আমাদের র‌্যাবের একটি সাইবার মনিটরিং সেল রয়েছে। সেই সেল দেখতে পায়, অনলাইনে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ‘অনলাইন ক্যাসিনো’র সঙ্গে সম্পৃক্ত। গতকাল আমরা জানতে পারি, অনলাইন ক্যাসিনোর বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক ওদলনেতা সেলিম প্রধান পরিস্থিতি বুঝে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আমরা ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি তাকে আটকের। এরপর তাকে বিমান থেকে নামিয়ে আনি। তাকে নামিয়ে আনার পর আমরা তার গুলশান ও বনানীর বাসা এবং অফিস ঘেরাও করি। আমরা সারা রাত অনুসন্ধান করে ৮৪টি মদের বোতল, ২৯ লাখ ৫ হাজার ৫শ’ টাকা, ২৩টি দেশের বৈদেশিক মুদ্র উদ্ধার করেছি, যার পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। মেয়াদোত্তীর্ণসহ তার ১২টি পাসপোর্ট পেয়েছি। ১৩টি ব্যাংকের ৩২টি চেকবই পেয়েছি। একটি সার্ভার জব্দ করেছি। চারটি ল্যাপটপ উদ্ধার করেছি। দুটি হরিণের চামড়া উদ্ধার করেছি।”

সেলিম প্রধানকে সঙ্গে নিয়েই তার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ছবি: ফোকাস বাংলা

ঢাকায় সেলিম প্রধানের জন্ম ১৯৭৩ সালে। ১৯৮৮ সালে সে ভাইয়ের সঙ্গে জাপানে যায়। সেখানে গাড়ির ব্যবসা করতো। পরবর্তীতে সে জাপানিদের সঙ্গে থাইল্যান্ড চলে আসে। থাইল্যান্ডে শিপইয়ার্ডের ব্যবসা করে। সেখানে এক কোরিয়ান নাগরিক মিস্টার তু’র সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, “কোরিয়ান ব্যক্তি সেলিম প্রধানকে বাংলাদেশে কনস্ট্রাকশন ব্যবসা করার প্রস্তাব দেয়। একই সময় ক্যাসিনো ব্যবসার কথা বলে। কোরিয়ান নাগরিকের পরামর্শে সেলিম প্রধান ২০১৮ সালে বি-২৪ এবং টি-২১ নামে দুটি গেমিং সাইট ওপেন করে। এই সাইট দুটির মাধ্যমেই অনলাইন ক্যাসিনো শুরু হয় বাংলাদেশে। এখানে কোরিয়ান নাগরিকের সঙ্গে অর্ধেক অর্ধেক শেয়ারের ভিত্তিতে ক্যাসিনো ব্যবসা করে তারা।”

অভিযানের সময় সেলিম প্রধানের অফিস ও বাসার সার্ভার, কম্পিউটার জব্দ করেছে র‌্যাব। সার্ভারে বিভিন্ন ধরনের গেম পেয়েছে র‌্যাব। এমনকি সেলিম প্রধানের ওয়েবসাইটেও ক্যাসিনো ব্যবসার কথা বলা আছে।


আরো পড়ুন - অনলাইন ক্যাসিনোর মূলহোতা সেলিমের বাসায় র‌্যাবের অভিযান


অনলাইনে ক্যাসিনো খেলতে হলে প্রথমে ওয়েবে প্রবেশ করে অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে হয়। এরপর নির্দিষ্ট অর্থ দিয়ে গেমে অংশ নিতে হয়। এই অর্থ মোবাইল ব্যাংকিং, নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করার পাশাপাশি ভিসাকার্ড বা ক্রেডিটকার্ড দিয়ে দেওয়া যেতো। গেমে জিতলে অংশগ্রহণকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা আসতো। হেরে গেলে আয়োজক প্রতিষ্ঠানের গেটওয়েতে টাকা জমা হতো বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা সারোয়ার বিন কাশেম।

তিনি বলেন, “অনলাইন ক্যাসিনোর টাকা তিনটি ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করতো সেলিম প্রধানের সহকারী আক্তারুজ্জামান। অ্যাকাউন্ট থেকে মাসে এই টাকা উত্তোলন করা হতো। এক মাসেই গেটওয়েতে ৯ কোটি টাকা জমা হওয়ার রেকর্ড আমরা পেয়েছি।”

র‌্যাব জানিয়েছে, গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল সেলিম প্রধান। বিভিন্ন সময় গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে অর্থ দিয়েও সহযোগিতা করেছেন তিনি। এসব ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় বৈদেশিক মুদ্রা আইন, বন্যপ্রাণী আইন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

167
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail