• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

যেভাবে পরিচালনা হতো অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসা

  • প্রকাশিত ১১:৪৪ সকাল অক্টোবর ২, ২০১৯
মোবাইল
প্রতীকী ছবি। এএফপি

লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম জানান, অনলাইন ক্যাসিনো মোবাইল অ্যাপ ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে চালানো হতো

রাজধানীসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাসিনো ও জুয়াবিরোধী অভিযান শুরুর পর সম্প্রতি সামনে আসে অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার বিষয়টি। সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে থাইল্যান্ডগামী একটি বিমানে ওঠার সময় অনলাইন ক্যাসিনোর "মূলহোতা" সেলিম প্রধানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উঠে আসে অনেক তথ্য। 

র‍্যাব-১'এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম জানান, অনলাইন ক্যাসিনো মোবাইল অ্যাপ ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে চালানো হতো। ওই অ্যাপগুলো বাংলায় পরিচালনা করা যেত। 

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, "কেউ যদি পি-২৪ অথবা টি-২১, তাকে ফোনে অ্যাপটি ইনস্টল করে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুলতে হতো। ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে খেলতে বিকাশ, নগদ, ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা যেত।"  

সারোয়ার আরও জানান, কেউ যদি জুয়ায় হারতেন, তাহলে তার অ্যাকাউন্ট থেকে ওই পরিমাণ অর্থ কেটে নেওয়া হতো। আর জিতলে যোগ হতো টাকা। এভাবেই সেলিম প্রধান অনলাইনে তার ক্যাসিনো ব্যবসা চালাতেন। 

আকতারুজ্জামান নামের সেলিমের একজন সহকারী অনলাইনে টি-২১ গেমটি পরিচালনা করতেন বলে জানান সারোয়ার।  ক্যাসিনো থেকে লাভের অর্থ তিনি নগদ করতেন বা দেশের বাইরে পাঠাতেন।  

র‍্যাব জানতে পেরেছে, যমুনা, দ্য সিটি ব্যাংক ও কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন'এ সেলিম অনলাইন ক্যাসিনোর লেনদেনের জন্য অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। বাহিনীর তদন্তে জানা গেছে, এই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে ৯ কোটি টাকা লেনদেন করা হয়েছে। অন্য কোনো মাধ্যমে এই অর্থ আদান-প্রদান হতো কিনা তাও খতিয়ে দেখছে র‍্যাব। 

এর আগে মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সেলিম প্রধানের রাজধানীর বনানী কার্যালয় থেকে ২১ লাখ ২০ হাজার টাকা, কম্পিউটার, সার্ভার মেশিনসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধারের পর জব্দ করে র‍্যাব। এই ভবন থেকেই সেলিমের অনলাইন ক্যাসিনোর কার্যক্রম পরিচালিত হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

সোমবার সেলিম প্রধানের গুলশান-২'এর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল র‍্যাব। সেখান থেকে মদ, বিদেশি মু্দ্রা ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে সেখান থেকে উদ্ধার করা অর্থ বা জিনিসপত্রের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।