• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৫১ সন্ধ্যা

রাবিতে উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে মশাল মিছিল

  • প্রকাশিত ১০:৪৩ রাত অক্টোবর ২, ২০১৯
রাবি মশাল মিছিল
উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বুধবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল ঢাকা ট্রিবিউন

'উপ-উপাচার্যের ফোনালাপের ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে'

ছাত্রীর সঙ্গে দর কষাকষির ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে মশাল মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। 

বুধবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভবন থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশের সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ রাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মুরশেদুল ইসলাম।


আরও পড়ুন- চাকরি দিতে রাবি উপ-উপাচার্যের দর কষাকষির ফোনালাপ ফাঁস!


সমাবেশে রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুর মজিদ অন্তর বলেন, ‘‘জোহা স্যার তার ছাত্রদের অধিকার আদায়ে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। জোহা স্যারের ক্যাম্পাসে কোনো দুর্নীতিবাজের ঠাঁই হবে না। আমরা কোনো অন্যায় অবিচার মাথা পেতে নেবো না। এ দুর্নীতিবাজ উপ-উপাচার্য কোনোভাবেই আর এই চেয়ারে থাকতে পারেন না। আমরা অনতিবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করছি। তার ব্যতিক্রম হলে লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।’’

ছাত্র ফেডারেশন, রাবি শাখার সভাপতি রাশেদ রিমন বলেন, উপ-উপাচার্যের ফোনালাপের ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এরপরও তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন। তাকে পদচ্যুত করা হোক।

উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি ছাত্রজোটের:

এর আগে বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে থেকে দুর্নীতি ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে পদযাত্রা বের করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। পদযাত্রাটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আমতলায় এক সমাবেশে মিলিত হয়। তারা উপাচার্যের ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান ও উপ-উপাচার্যের শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে দু’জনেরই দ্রুত পদত্যাগের দাবি জানান। 

প্রসঙ্গত, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মো. জাকারিয়ার একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। যেখানে তিনি এক ছাত্রীর সঙ্গে টাকা লেনদেনের বিষয়ে আলাপ করেন। এরপর থেকে ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে। যদিও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মো. জাকারিয়া লিখিত বক্তব্যে দাবি করেন ফাঁস হওয়া রেকর্ডটি আংশিক ও খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে তার সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে ইতিহাস বিভাগ ও জন ইতিহাস চর্চাকেন্দ্র তিনদিনব্যাপী আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানের পর ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান দেন উপাচার্য। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর সারাদেশে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এরপর থেকেই তোপের মুখে পড়ে উপাচার্য। পরবর্তীতে উপাচার্যের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ প্রশাসক ড. প্রভাষ কুমার কর্মকার এক বিজ্ঞপ্তিতে ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অতি প্রাসঙ্গিকভাবেই এ স্লোগান দিয়েছিলেন বলে জানান।