• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

মধুর ক্যান্টিনের মেঝেতে বসে ছাত্রদলের প্রতিবাদ

  • প্রকাশিত ০৪:২২ বিকেল অক্টোবর ৩, ২০১৯
ঢাবি
বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না পেয়ে মেঝেতে বসেছেন বলে অভিযোগ ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের। ঢাকা ট্রিবিউন

‘অন্যান্য দিনের মতো তারা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে সকাল সাড়ে ১০টায় মধুর ক্যান্টিনে এসে দেখতে পান, সেখানে খালি কোনও চেয়ার-টেবিল নেই। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সব দখল করে বসে রয়েছেন’

মধুর ক্যান্টিনের বেশিরভাগ জায়গা ও চেয়ার-টেবিল দখলের অভিযোগ এনে মেঝেতে বসে প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার পর মধুর ক্যান্টিনে সরেজমিনে এই পরিস্থিতি দেখা গেছে।

ছাত্রদলের অভিযোগ— “ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মধুর ক্যান্টিনের বেশিরভাগ জায়গা দখল করে রেখেছেন। তাদের (ছাত্রদলের) বসার জন্য কোনও চেয়ার-টেবিল রাখেননি।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মধুর ক্যান্টিনে এসে দেখতে পান, তাদের বসার জায়গাতে কোনও চেয়ার-টেবিল নেই। তাই প্রতিবাদ হিসেবে তারা ফ্লোরে বসে পড়েন। 

ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, “অন্যান্য দিনের মতো তারা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে সকাল সাড়ে ১০টায় মধুর ক্যান্টিনে এসে দেখতে পান, সেখানে খালি কোনও চেয়ার-টেবিল নেই। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সব দখল করে বসে রয়েছেন। এসময় সেখানে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বসে থাকতে দেখেন তারা।”

এরপর বেলা ১১টার দিকে মধুতে আসেন ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন। তিনিও এসে একই অবস্থা দেখতে পান। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মেঝেতে বসে প্রতিবাদ জানান।

একঘণ্টা অবস্থানের পর নেতাকর্মীদের নিয়ে ছাত্রদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক মধুর বাইরে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীদের ওপরে হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। মিছিলটি মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন, ভিসি চত্বর দিয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল অভিযোগ করে বলেন, “গতকালও (বুধবার ২ অক্টোবর) তারা মধুর ক্যান্টিনে মাত্র একটি টেবিল এবং তিনটি চেয়ারে বসেন। তখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের মাথার ওপরের সিলিং ফ্যানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। গরম সহ্য করতে না পেরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধ্য হয়ে মধুর ক্যান্টিন থেকে চলে যান।” এটিকে ছাত্রলীগের ‘টেকনিক’ বলে অভিহিত করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, “এধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। মধুর ক্যান্টিনে আমরা অন্যান্য দিনের মতো বসে আছি। তারা দেখলাম মধুতে আসছে। এখন তারা বাইরে বসে আছে। তারা চেয়ার-টেবিল না পেলে আমরা বানিয়ে দেবো নাকি?”

এবিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের মোবাইলে ফোন করা হলে তার ফোনটি রিসিভ হয়নি।

মধুর ক্যান্টিনের ম্যানেজার আলমগীর হোসেন বলেন, “আমি দেখলাম, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মধুতে এসে চেয়ার-টেবিল পায়নি। তারা কিছুক্ষণ ফ্লোরে বসে চলে গেছেন।”