• বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৩ বিকেল

শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে

  • প্রকাশিত ০৭:৩২ রাত অক্টোবর ৪, ২০১৯
জিসান
শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মালিবাগে ২০০৩ সালে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) দুই সদস্যকে খুনের পর জিসানের নাম উঠে আসে

সংযুক্ত আরও আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেফতার বাংলাদেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। 

দীর্ঘ ১০ বছর ধরে পলাতক থাকার পর জিসান ওরফে জিসান আহমেদ ওরফে আলী আকবর চৌধুরী ইন্টারপোলের হাতে গ্রেফতার হন। তার বিরুদ্ধে পুলিশ সদস্য হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তাকে "মোস্ট ওয়ান্টেড" তালিকাভুক্ত করা হয়। 

ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো দুবাই গত সপ্তাহে জিসানকে গ্রেফতার করে বলে বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) নিশ্চিত হয়। জিসানের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরণ বহনের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারপোল।  

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো) মহিউল ইসলাম জানান, এরই মধ্যে জিসানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। 

রাজধানীর মালিবাগে ২০০৩ সালে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) দুই সদস্যকে খুনের পর জিসানের নাম উঠে আসে। পরে ২০০৭ সালে ভারতে পালিয়ে যান তিনি। এরপর সেখান থেকে চলে যান দুবাই। দুবাইয়ে বসেই জিসান ঢাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড চালান বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে উঠে আসে। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৈরি ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় রয়েছে জিসানের নাম। তাকে ধরিয়ে দিতে ঘোষণা করা হয় পুরস্কারও। ইন্টারপোলও জিসানের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। 

এআইজি মহিউল ইসলাম বলেন, "আমরা দুবাই এনবিসি'র সঙ্গে গত দুই-তিন মাস ধরে যোগাযোগ রেখে চলছিলাম এবং  তারা জিসানকে নজরদারিতে রেখেছিল।" 

তিনি আরও বলেন, ইন্টারপোল বাংলাদেশকে জানায়, আলী আকবর চৌধুরী নামের জিসানের একটি ভারতীয় পাসপোর্ট ছিল। সেখানের আসামের সিলাচরের ঠিকানা উল্লেখ করা রয়েছে। এছাড়া তার ডোমিনিক রিপাবলিকেরও একটি পাসপোর্ট রয়েছে। 

মহিউল ইসলাম বলেন, "ইন্টারপোল আমাদের কাছে কিছু ডকুমেন্ট চায়। আমরা সে অনুযায়ী জিসান সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দেই। এর জের ধরেই তারা তাকে গ্রেফতার করে।"

জিসানকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব? 

সাধারণত ইন্টারপোলের সদস্য কোনো দেশের অনুরোধের সাপেক্ষে সংস্থাটি অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে থাকে। বিভিন্ন দেশে তাদের কার্যালয়ের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমেই তারা এ কাজটি করে থাকে। 

তবে ইন্টারপোলের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তির অভাবে সংস্থাটির মাধ্যম অনেক দিন ধরেই বিদেশে অবস্থারত সন্ত্রাসীদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। দুবাইয়ের সঙ্গেও বাংলাদেশের এমন ধরনের কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।  

তবে ভারতীয় পাসপোর্টধারী জিসানকে যদি ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তাহলে সেখান থেকে বন্দি-বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের পুলিশের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই দুবাই থেকে জিসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাই শীর্ষ এই সন্ত্রাসীকে সরাসরি বাংলাদেশে আনা হবে বলে আশা করছে পুলিশ। আর এই কাজকে যথাসম্ভব সহজ করতে ইন্টারপোলের সঙ্গে পুলিশ যোগাযোগ রাখছে।  

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই রাজধানীর খিলগাঁও থেকে খান মুহাম্মদ ফয়সাল, জিয়াউল আবেদিন জুয়েল ও জাহিদ আবেদিন রুবেল নামের জিসানের তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে জিসান সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। 

জানা গেছে, বাংলাদেশে ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত জিকে শামীম, খালেদ ভূঁইয়া ও ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল জিসানের। এদের মধ্যে জিকে শামীম ও খালেদ ভূঁইয়া সম্প্রতি গ্রেফতার হন। চলতি বছরের জুনে শামীম, খালেদ ও সম্রাট সিঙ্গাপুরে জিসানের সঙ্গে দেখা করতে যান বলে জানিয়েছে সূত্র। তবে এর পর থেকেই জিসানের সঙ্গে শামীমের সম্পর্ক অবনতি হতে থাকে।