• সোমবার, অক্টোবর ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৩ রাত

দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগ-সৌহার্দ্যের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর ৪ দফা প্রস্তাব

  • প্রকাশিত ১০:২১ রাত অক্টোবর ৪, ২০১৯
শেখ হাসিনা
ইন্ডিয়া ইকোনোমি সামিটের সামিটে শুক্রবার বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : ইউএনবি

পরবর্তী দশকে মৈত্রী ও সহযোগিতার মাধ্যমে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা পরিচালনায় চারটি নীতি অনুসরণ করার প্রস্তাব দেন শেখ হাসিনা 

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা "ভুল ধারণা ও মিথ্যা আশঙ্কা" কাটিয়ে সব জাতি এবং দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মান নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, "বিগত দশকে আমরা অনেক উন্নত আঞ্চলিক ধারণা এবং উদ্যোগ দেখেছি। কেউ কেউ সফল হয়েছে, অন্যরা হতে পারেনি।"

পরবর্তী দশকে মৈত্রী ও সহযোগিতার মাধ্যমে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা পরিচালনায় চারটি নীতি অনুসরণ করার প্রস্তাব দেন শেখ হাসিনা।

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লির হোটেল তাজ প্যালেসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ভারতীয় অর্থনৈতিক সম্মেলনের সমাপনী আলোচনায় এসব কথা বলেন।

‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী চিন্তায় অনুপ্রাণিত হয়ে এবং তার অংশীদারিত্বমূলক সমৃদ্ধি ও দায়বদ্ধতায় বিশ্বাস করে বাংলাদেশ বিমসটেক, সার্ক, বিবিআইএন এবং বিসিআইএমের মতো আঞ্চলিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে,’ বলেন তিনি।

প্রথম প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সৌহার্দ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়াস চালিয়ে যেতে হবে। সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘুর মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। যুগ যুগ ধরে বহুত্ববাদ হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার শক্তি। এর মাধ্যমে আমরা ধর্ম, জাতি ও ভাষাগতভাবে দক্ষিণ এশিয়ার বৈচিত্র্যের উদযাপন করতে পারে। এটি হচ্ছে মৌলিক বিষয়।"

দ্বিতীয় প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত প্রবৃদ্ধির সময়ে সমাজে যেন বৈষম্য আরও বেড়ে না যায় তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। সম্পদ হতে হবে অন্তর্ভুক্তমূলক এবং তা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছতে হবে। স্বল্পোন্নত সম্প্রদায় বা দেশ পিছনে পড়ে থাকবে না। আমাদের যুবকদের আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদা অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে অন্যদের হাত ধরতে হবে। সম্প্রদায় ও দেশসমূহের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা হচ্ছে চাবিকাঠি। আমাদের ভ্রান্ত ধারণা থেকে ঊর্ধ্বে উঠতে হবে।" 

তৃতীয় প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, "জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রবর্তিত ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরিতা নয়’ এই নীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ বিশ্ব পরিমণ্ডলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় অব্যাহত অবদান রেখে চলছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি আমাদেরকে সকল দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে সহায়তা করছে।"

তিনি বলেন, "১৯৯৬ সালে আমরা ভারতের সঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি বন্টনের সমাধান করেছি। আমরা সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র সীমানা নির্ধারণ করেছি। বাংলাদেশ এখন ভারতের সঙ্গে আন্তঃনদী নাব্যতা উন্নয়নে কাজ করছে। আমরা ভারত থেকে ইন্টার গ্রীড সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ কিনছি।"

"আমাদের রাজনীতি,অর্থনীতি ও সমাজের জন্য এ ধরনের সহযোগিতাপূর্ণ সংস্কৃতি প্রয়োজন। অপরদিকে আমাদের বেসরকারি খাত স্বচ্ছ ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।" 

চতুর্থ প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা অবশ্যই বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ন্ত্রণ করবো। আমাদের জনগণের স্বার্থে ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক বাস্তবতার আমরা প্রশংসা করবো। আমরা স্বল্প মেয়াদি লাভের জন্য দীর্ঘ মেয়াদি স্বার্থ বন্ধ করে দিতে পারি না।"

তিনি আরও বলেন, "বঙ্গবন্ধু জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করতেন এবং তাদেরকে ভালবাসতেন। তিনি উপলব্ধি করেন যে বাংলাদেশের উন্নয়ন বজায় রাখতে হলে তাদের প্রতিবেশি দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফিরে এসে তিনি (বঙ্গবন্ধু) কলকাতায় ঘোষণা দেন যে প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং আমাদের জনগণের স্বার্থে গঠনমূলক নীতিমালা প্রণয়নে আমরা সহযোগিতা করবো।"

অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরের উপ-প্রধানমন্ত্রী হেন্জি সুই কেট, সিকোইয়া ক্যাপিটাল ভারতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শৈলেন্দ্র সিং, অ্যাপোলো হসপিটাল এন্টারপ্রাইজের এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারপারসন শোবানা করমেনিণী, বুকিং ডটকমের চেয়ারম্যান গিলিয়ান ট্যানস প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।