• বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৩ রাত

শিবির সন্দেহে বুয়েট ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা

  • প্রকাশিত ১০:৪৫ সকাল অক্টোবর ৭, ২০১৯
বুয়েট
শেরে বাংলা হল, বুয়েট। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

হত্যার ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেলেও রাত দুইটার পর থেকে হলটির কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির সন্দেহে আবরার ফাহাদ নামে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

রবিবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর চকবাজারে অবস্থিত বুয়েটের শেরে বাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে আবরার ফাহাদ (২১) নামে ওই ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফাহাদ তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. মাশুক এলাহী জানান, রবিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে খবর দেওয়া হলে তিনি হলে যান। এসময় ফাহাদকে সিঁড়িতে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলেও তিনি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রবিবার আনুমানিক রাত আটটার দিকে ফাহাদকে শেরে বাংলা হলের ১০১১ নং রুম থেকে ২০১১ নং রুমে ডেকে নিয়ে যায় কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরবর্তী সময়ে ছাত্রশিবিরের সাথে তার সংশ্লিষ্টতার ‘প্রমাণ’ পাওয়া গেলে তাকে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে মারা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ প্রসঙ্গে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিতু বলেন, “নিহত ফাহাদের ফেসবুক একাউন্ট ও ইনবক্স ঘেঁটে তার সঙ্গে ছাত্র শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়।” এমনকি শিবির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ফেসবুক পেজ ‘বাঁশের কেল্লা’তে তার লাইক দেওয়া আছে বলেও তিনি জানান। রাত পৌনে নয়টার দিকে তিনি ওই কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। তবে এরপর ফাহাদকে মারধর করা হয়েছে কিনা এবিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি। 

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, তিনি শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপর অভিযুক্ত ব্যক্তি অমিত সাহা, তিনি আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত।

অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন, বুয়েট ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুজতবা রাফিদ, উপ সমাজসেবা সম্পাদক ও বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ইফতি মোশাররফ সকাল,  ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও নাভাল আর্কিটেকচার এন্ড  মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন। এদের প্রত্যেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেলের অনুসারী।

এ প্রসঙ্গে ভোর পাঁচটায় রাসেলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, হলের সিঁড়িতে একজন শিক্ষার্থী বমি করছেন এ খবরটি তিনি শুনেছেন। তবে ওই শিক্ষার্থী মারা গেছেন কিনা সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি। তবে এরপর তারসঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, সকাল ৭টার দিকে এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এদিকে, রাত দুইটার পর থেকে হলটির কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।