• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

চিকিৎসক: আবরারের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে

  • প্রকাশিত ০৪:০৪ বিকেল অক্টোবর ৭, ২০১৯
বুয়েট
আবরার ফাহাদ। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রশিবিরের সাথে তার সংশ্লিষ্টতার ‘প্রমাণ’ পাওয়া গেলে তাকে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানো হয় বলেও অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মরদেহের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট বলছে, ভোঁতা কোনো বস্তু দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

সোমবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ময়নাতদন্তে আবরারের শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, রবিবার (৬ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

‘শিবির সন্দেহে’ আবরারকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।


আরও পড়ুন- শিবির সন্দেহে বুয়েট ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা


প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রবিবার আনুমানিক রাত আটটার দিকে ফাহাদকে শেরে বাংলা হলের ১০১১ নং রুম থেকে ২০১১ নং রুমে ডেকে নিয়ে যায় কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরবর্তী সময়ে ছাত্রশিবিরের সাথে তার সংশ্লিষ্টতার ‘প্রমাণ’ পাওয়া গেলে তাকে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন- মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের তথ্য-গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার,  শাখা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা, শাখা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুজতবা রাফিদ, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ও বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও নাভাল আর্কিটেকচার এন্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন। তারা প্রত্যেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেলের অনুসারী বলে জানা গেছে।


আরও পড়ুন- আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ


এদিকে, ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল, শেরে বাংলা হল ইউনিটের ভাইস প্রেসিডেন্ট মুত্তাকিম ফুয়াদ, শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার এবং ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়নকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (৭ অক্টোবর) তাদের আটক করা হয় বলে ঢাকা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাব হোসাইন।


‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করেছে’


ঢাকা মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, “প্রাথমিকভাবে মারধরই এ হত্যাকাণ্ডের কারণ বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।” রাসেল ও ফুয়াদকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।