• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

রাতে আবরারকে বার বার ফোন করেছিলেন মা রোকেয়া

  • প্রকাশিত ০৪:৪৩ বিকেল অক্টোবর ৭, ২০১৯
বুয়েট
নিহত আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া বেগম। ঢাকা ট্রিবিউন

‘রাতে অনেকবার ফোন দিয়েছিলাম, ও আর ফোন ধরেনি’

ঢাকায় আসার জন্য রবিবার সকালে আবরারকে ঘুম থেকে তুলে দেন মা রোকেয়া খাতুন। ঢাকায় আসার পথে কয়েকবার মায়ের সাথে কথাও হয় তার। পরে বিকেল ৫টার দিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পৌঁছে মাকে ফোন করে সে খবরও জানান আবরার। কিন্তু এরপর মা রোকেয়া খাতুন ছেলের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি। ছেলের খবর নিতে রাতে বারবার ফোন করেছেন তিনি। কিন্তু ছেলের মোবাইল ফোনটি একবারও রিসিভ হয়নি।    

সোমবার (৭ অক্টোবর) সকালে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্য, ও স্বজনদের শোকের মাতম চলছে। পরিবারের সদস্যেরা বুঝে উঠতে পারছেন না এত মেধাবী, শান্ত ছেলেটিকে কারা, কী কারণে হত্যা করতে পারে!

আবরারের মা বলেন, “এমন শান্ত ছেলের কোনো শত্রু থাকতে পারে না।”

এর আগে রবিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শের-এ বাংলা হলের নিচতলা থেকে আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আবরার তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পুলিশের ধারণা তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক সোহেল মাহমুদও ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, “ভোঁতা কোনো বস্তু দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।”


আরো পড়ুন - শিবির সন্দেহে বুয়েট ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা


আবরারের বাবার নাম বরকতুল্লাহ। তিনি বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের নিরীক্ষক কর্মকর্তা ছিলেন। মা রোকেয়া খাতুন একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবরার ফাহাদ বড়। ছোট ভাই আবরার ফায়াজ ঢাকা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সেও ঢাকা কলেজের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে। বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের কাছেই তার হোস্টেল। কুষ্টিয়ার পিটিআই সড়কে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বাসার পাশেই তাদের বাড়ি।

নিহত আবরারের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সমর্থক। কিন্তু আবরারকে কেন এভাবে জীবন দিতে হলো, পরিবারের কেউই তা বুঝে উঠতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে হত্যাকারীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহত আবরারের মা রোকেয়া খাতুন। 

পরিবারের সদস্যেরা সাথে কথা বলে জানা যায়, ১০ দিন আগে ছুটিতে দুই ভাই বাড়িতে গিয়েছিলেন। এ মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত বাড়িতে থাকতে চেয়েছিলেন আবরার। তবে সামনে পরীক্ষা, তাই পড়াশোনার চাপ আছে এ কথা বলে রবিবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন আবরার। ছোটবেলা থেকেই আবরার ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ২০১৫ সালে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করেন আবরার। এইচএসসিতে ভাল ফলাফল করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হন আবরার। চান্স পেয়েছিলেন মেডিকেলেও।     


আরো পড়ুন - চিকিৎসক: আবরারের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে


মা রোকেয়া খাতুন বলেন, “রবিবার সকালে আমি তাকে নিজে ঘুম থেকে ডেকে তুলি। সে ঢাকায় রওনা দেয়। মাঝে তিন থেকে চারবার ছেলের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়। বিকেল পাঁচটায় হলে পৌঁছে ছেলে আমাকে ফোন দেয়। এরপর আর কথা হয়নি। রাতে অনেকবার ফোন দিয়েছিলাম, ও আর ফোন ধরেনি।”

আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফায়াজ বলেন, “ফোন না ধরায় আমি ফেসবুকের মেসেঞ্জারে ভাইয়াকে নক করি। ভাইয়া সে সময়ও ফেসবুকে অ্যাকটিভ ছিল, তবে সাড়া দেয়নি।”

চাচা মিজানুর রহমান দাবি করেন, “আবরার ফাহাদ শিবিরের কর্মী বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এটা বানোয়াট, আবরার একজন উদারমনা ও প্রগতিশীল ছেলে। আমরা গোটা পরিবার আওয়ামী লীগের সমর্থক। হানিফ সাহেবের সব প্রোগ্রাম আসরা এটেন্ড করি। তবে আবরার এমনিতে তাবলিগে যেত। বুয়েটে ভর্তির পরও দুই তিনবার সে তাবলিগে গিয়েছিল।”